আন্তর্জাতিক

আই হ্যাভ এ প্ল্যান: লেবারের নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহাম দলকে ঐক্যবদ্ধ করা, জনগণের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার এবং ‘স্বতন্ত্র লেবার রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। তবে প্রায় আধাঘণ্টার দীর্ঘ বক্তৃতা দিলেও তার সরকার পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

দলীয় আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর সোমবার তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ভাষণের শেষদিকে বার্নহাম বলেন, আমি জানি কী করতে হবে। আই হ্যাভ এ প্ল্যান।

তবে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

লন্ডনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় বার্নহাম আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত ও আবেগঘন ভাষায় বক্তব্য রাখেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ বক্তা। ভাষণে তিনি রসিকতা, আত্মসমালোচনা এবং সাধারণ মানুষের ভাষা ব্যবহার করে উপস্থিতদের মনোযোগ ধরে রাখেন।

শিল্পাঞ্চলের অবক্ষয়, ইস্পাত কারখানা, কয়লাখনি ও জাহাজশিল্পের পতনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব অঞ্চলের মানুষকে আবারও উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

ফুটবল নিয়েও একাধিকবার উদাহরণ টেনে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজনীতিতে দোষারোপের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং শুধু উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ড নয়, পুরো যুক্তরাজ্যের স্বার্থে সরকার পরিচালনা করা হবে।

বার্নহাম ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা ডেভল্যুশনের পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবার পার্টি অন্য কোনো দলের নীতি অনুসরণ করবে না।

তার ভাষায়, আমরা গ্রিন পার্টির চেয়ে বেশি গ্রিন কিংবা রিফর্ম পার্টির চেয়ে বেশি রিফর্ম হওয়ার চেষ্টা করব না। আমরা জিতব নিজেদের পরিচয়ে—সাহসিকতার সঙ্গে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং সত্যিকার অর্থে লেবার হয়ে।

ভাষণে তিনি জনগণের হাতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া এবং পানি, আবাসন ও গণপরিবহণের মতো মৌলিক সেবা আরও সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতি দেন। এসব খাতে সরকারের ভূমিকা বাড়ানোরও ইঙ্গিত দেন।

তবে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে তিনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এমন মন্তব্য বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। অনেকের ধারণা, এটি দলীয় অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার কৌশল।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্নহামের প্রথম ভাষণ লেবার পার্টির জন্য নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দিলেও তার ঘোষিত ‘পরিকল্পনা’ কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তার প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই।

সূত্র: গার্ডিয়ান

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension