
যুদ্ধ বন্ধে কোন বাধার মুখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতি আবার আগের সমীকরণে ফিরে গেছে। নতুন বাস্তবতায় শুক্রবার সপ্তমদিনের মতো সংঘাতে জড়িয়েছে উভয় দেশ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এদিন পাঁচটি সেতু, উপকূলীয় শহর ও বন্দর নিশানা করেছে ওয়াশিংটন।
যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়া বা আলোচনার জন্য গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি আর কার্যকর নেই। উভয়পক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা করায় ইরানের আঞ্চলিক কূটনীতি দুর্বল হয়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাপে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের জন্য অস্ত্র মজুতের সংকটেও পড়েছে তাঁর দেশ।
প্রশ্ন হলো এতকিছুর পরও দুই দেশ সংঘাত বন্ধ করছে না কেন?
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলম সালেহ আলজাজিরাকে বলেছেন, যদিও অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক কূটনীতি তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হতে পারে, তবুও দেশটির নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত থাকবে। তাদের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা খুবই কম।
সালেহ বলেন, ইরানের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৪৭ বছর ধরে দেশটি নানা নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে চলছে। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র যাতে তাদের দুর্বল না ভাবে সেজন্য ইরান সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তাই, সামরিক সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হলেও কোনো ছাড় দিতে তারা রাজি নয়।
অস্ত্র উৎপাদনের বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান দ্রুতগতিতে ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, দেশটি কয়েক মাসের মধ্যে ড্রোন ভাণ্ডার পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
আলম সালেহ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ইরান কোনো চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত নয়। যতই অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ুক না কেন, কোনো আপস করবে না। প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে বিশ্লেষকদের মত হলো, অস্ত্রের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের মূল কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নয়; বরং প্রতিদ্বন্দ্বি পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো সংঘাত।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ফিনুকেন আলজাজিরাকে বলেন, প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টর এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর মজুত অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। চীনের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে হয়তো এই অস্ত্রগুলোর প্রয়োজন হতে পারে। তখন যুক্তরাষ্ট্র বিপদে পরতে পারে।
উভয়পক্ষের যেমন দুর্বল দিক আছে তেমনি তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চাপেও আছে। অধ্যাপক আলম সালেহর মতে, চীন ও রাশিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা দেখছে, সম্ভাব্য সব উপায় অবলম্বন করেও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে সামাল দিতে পারছে না। এটি প্রমাণ করে, ইরানের মতো একটি মাঝারি শক্তির দেশকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টিও অনেক বেশি প্রকট।



