ভারত

ভারতজুড়ে আন্দোলনের ডাক ককরোচ পার্টির

নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী। পুলিশি বাধা ও গণগ্রেফতারের পরও পিছু হটতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। জেল থেকে মুক্তি পেয়েই তারা জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলন থামবে না বরং তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে পুরো ভারতে।

ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

কিন্তু শনিবার আন্দোলনের শুরুতেই কঠোর অবস্থানে যায় পুলিশ। প্রায় ৩ থেকে ৭ হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে বন্ধ করে দেওয়া হয় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন এবং বাতিল করা হয় আড়াইশ ট্রেন। এমনকি বিমানে উঠে আন্দোলনকারী তিন প্রধান নেতা—অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে আদালত তাদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। আদালতের শর্ত ছিল, আগামী এক বছর তারা শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারবেন না। কিন্তু জেল থেকে বের হয়েই সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানান, তারা এমন কোনো মুচলেকায় সই করেননি যা আন্দোলন করতে বাধা দেয়। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো দেশের প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। আমাদের আন্দোলন স্থগিত করার প্রশ্নই ওঠে না।

সংগঠনের নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে ১৯৭৫ সালের ভারতের ‘জরুরি অবস্থা’র সাথে তুলনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তরুণদের ভয় দেখাচ্ছে এবং তাদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, বিরোধীদের উসকানিতে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু তার নামে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যাবে না।

তবে সরকারের এই কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ আন্দোলনকারীরা। তাদের স্পষ্ট কথা—দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।

সূত্র: এনডিটিভি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension