
অচলাবস্থা ভেঙে ফের সচল আমেরিকা
৪৩ দিনের রেকর্ড সরকারি শাটডাউন শেষ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরে ফের সচল প্রশাসন
শাহ্ জে. চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম সরকারি শাটডাউনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ব্যয় বিল। বৃহস্পতিবার রাতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ২৮৬-১৪৫ ভোটে বিলটি অনুমোদন করে। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন, যা সরকারের অচলাবস্থা দূর করে দেশকে আবার কার্যক্রমে ফিরিয়ে এনেছে।
এই পদক্ষেপের ফলে কোটি কোটি সরকারি কর্মচারী বেতন ফিরে পাবেন, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা ও সামাজিক সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পগুলো পুনরায় সচল হবে।
দীর্ঘ শাটডাউন ও তার প্রভাব
• টানা ৪৩ দিন ধরে সরকারি কর্মসূচি স্থবির ছিল।
• প্রায় ৮ লক্ষ সরকারি কর্মচারী বেতনবিহীন অবস্থায় ছিলেন।
• বিমানবন্দর নিরাপত্তা, জাতীয় উদ্যান, ভিসা ও পাসপোর্ট সেবা এবং ট্যাক্স ফেরত প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
• অর্থনীতিতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান
দীর্ঘ আলোচনা ও বৈঠকের পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা সীমিত মেয়াদী ব্যয় চুক্তিতে একমত হয়েছে, যা মার্চ পর্যন্ত সরকারের তহবিল নিশ্চিত করে।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন:
“আমরা জনগণের স্বার্থে কাজ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র আবার স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে।”
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার:
“দ্বিদলীয় ঐক্যই জাতিকে শক্তিশালী রাখে। আজ সেই প্রমাণ আমরা দেখালাম।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শেষে তিনি বলেন:
“এই বিল প্রমাণ করে আমেরিকা কখনও থেমে থাকে না। আমরা কঠিন সময় পার করেছি, কিন্তু জনগণের পাশে আছি এবং অর্থনীতিকে আবার গতিশীল করব। আমাদের প্রশাসন কর্মসংস্থান, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।”
জনগণের প্রতিক্রিয়া
• সরকারি কর্মচারীরা কাজে ফিরে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
• ব্যবসায়ীরা বলছেন, “শাটডাউন যেন ব্যবসার প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, এখন অন্তত কিছুটা আলো দেখতে পাচ্ছি।”
• সাধারণ নাগরিকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আর এমন দীর্ঘ অচলাবস্থা দেখা যাবে না।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
• মার্চের পর নতুন বাজেট নির্ধারণ না হলে আবারও শাটডাউনের ঝুঁকি আছে।
• রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা।
• ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এটি রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে রিপাবলিকান দলের ঐক্যের জন্য।



