
অসুস্থ নন এরশাদ!
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আজ ১৮ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে নিজ বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে ফিরেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। আজ সকালে বাসায় ফেরেন তিনি। বাড়ি ফিরে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মহাজোটের আসন বণ্টন এবং নিজ দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়েও আলাপ আলোচনা শুরু করেছেন তিনি।
এদিকে এরশাদের হাসপাতালে ভর্তির খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। অনেকেই বলেন, এরশাদের এখন বাস্তবিক কোনও শারীরিক অসুস্থতা নেই। নিজ দলের প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের সঙ্গে তার টানাপড়েন চলছে। দলের প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন স্ত্রী রওশন। কিন্তু এরশাদ এটা মেনে নিতে পারছেন না। মহাজোটের সঙ্গে আলোচনা এবং নিজ দলের প্রার্থী বাছাইয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য চান এরশাদ। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কৌশলী এরশাদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
অবশ্য রাজনৈতিক কারণে এইচ এম এরশাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিগত সাধারণ নির্বাচনের আগেও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই সময় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তিনি।
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরশাদ বলেছিলেন চিকিৎসার নামে তাকে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে।
বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল পলিটিশিয়ান’ হিসাবে খ্যাত এরশাদ হাসপাতালে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে তার দল অংশ নিচ্ছে না। তাকে জোর করে নির্বাচনে নেওয়া হলে তিনি আত্মহত্যা করবেন।
এরশাদের এমন হুমকি সত্ত্বেও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে ওই নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি। কিন্তু এরশাদ যে তার কথা রাখেন নি একথা বলাই বাহুল্য। তবে নির্বাচনে অংশ না নিতে এরশাদ নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আইনের মারপ্যাঁচে তা গৃহীত না হওয়ায় রংপুর-৩ আসন থেকে ভোটে জিতে যান।
এরশাদের ওই সময়ের রাজনৈতিক অবস্থান বিষয়ে দলের নেতাদের কাছ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন, এটা জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে এরশাদের সঙ্গে রওশন এরশাদের দ্বন্দ্বের চরম পরিণতি। আর অন্যরা বলেন, এটা এরশাদের নির্বাচনী নাটক। রওশন এরশাদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু পুরো সময়েটাতে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান এরশাদের স্ত্রী। তবে নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের ৯ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে রওশন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এরশাদের সম্মতিতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং তার সম্মতিতেই বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে প্রায় এক মাস র্যাব পাহারায় বারিধারার বাড়ি ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে থাকার পর এইচ এম এরশাদ বঙ্গভবনে শেখ হাসিনার নতুন সরকারের শপথের সাক্ষী হয়ে বাড়ি ফেরেন।
১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এরশাদ বাড়ি ফেরেন মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হিসেবে।
বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে এরশাদের উপস্থিতি ছিল সবার কাছে এক ধরনের চমক। অনুষ্ঠান শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনি দরবার হলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত প্রায় সবাই হাততালি দিয়ে ওঠেন, কেউ কেউ উচ্চ স্বরে হেসে উঠেন। এ সময় এরশাদ ছিলেন বিষন্ন।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবভবনের লনে চা চক্রে যোগ দেন এরশাদ। চা চক্রে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলামকে দেখে এরশাদ বেশ উৎফুল্ল হয়ে তার হাত ধরে বলেন, ‘অ্যাই, তুমি কেমন আছ?’ সালমা ইসলামের সঙ্গে কথা বলার সময় বেশ কয়েকজন এরশাদের পা ছুঁয়ে সালাম করেন।



