
আগামী বছর সবচেয়ে জনবহুল দেশ হচ্ছে ভারত
চীনকে টপকে ২০২৩ সালেই বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হতে যাচ্ছে ভারত, আর তাতে করে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্কবাণী এসেছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে।
সোমবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ার এ দুই বড় দেশের জনসংখ্যা এ বছরই ১৪০ কোটি ছাড়াবে।
আগামী ১৫ নভেম্বর বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করবে। ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৮৫০ কোটি এবং এ শতকের শেষে তা ১০৪০ কোটিতে পৌঁছাবে।
২০১১ সালের জনশুমারিতে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটি। দশ বছর পর ফের শুমারি হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড মহামারীর কারণে গত বছর আর তা হয়ে ওঠেনি।
জাতিসংঘ বলছে, ১৯৫০ সালের পর এখনই বিশ্বের জনসংখ্যা সবচেয়ে ধীর গতিতে বাড়ছে। ২০২০ সালে এই বৃদ্ধির হার ১ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে।
গত বছর বৈশ্বিক গড় প্রজনন হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩ এ। অর্থাৎ, একজন নারী তার পুরো জীবনে গড়ে ২ দশমিক ৩টি শিশুর জন্ম দিচ্ছেন এখন। ১৯৫০ সালে এ হার ছিল ৫। জাতিসংঘের প্রক্ষেপণ বলছে, ২০৫০ সাল নাগাদ নারীর প্রজনন হার কমে ২ দশমিক ১ হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “বৈচিত্র্য, মানবতা এবং স্বাস্থ্য খাতে আমাদের বিস্ময়কর সাফল্য উদযাপনের এখনই সময়; স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতিতে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়েছে এবং মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হার অভাবনীয়ভাবে কমেছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতিসংঘ বলেছে, ২০২০ সালের শুরু থেকে পরের বছরের শেষ পর্যন্ত এক কোটি ৪৯ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে কোভিডজনিত কারণে।মূলত মহামারীর কারণে ২০২১ সালে বিশ্বে প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমে ৭১ বছর হয়েছে, যেখানে ২০১৯ সালে তা ছিল ৭২ দশমিক ৮ বছর।
২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের জনসংখ্যা যে পরিমাণ বাড়বে, তাতে অর্ধেকরও বেশি ভূমিকা থাকবে কঙ্গো, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স ও তানজানিয়ার।
প্রজনন হার কমে যাওয়ায় ৬১টি দেশের জনসংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ এখনকার তুলনায় ১ শতাংশ বা তার বেশি কমে যাবে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।



