
ইসরাইলের বিনোদন পার্কে মিসরীয় সৈন্যদের গণকবর!
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নিহত অন্তত ৮০ জন মিসরীয় সৈন্যের গণকবরের সন্ধান মিলেছে ইসরাইলের একটি জনপ্রিয় বিনোদন পার্কে। শুক্রবার এ খবর দিয়েছে ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎজ।
পত্রিকাটি বলছে, ১৯৯০ সালের দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইলেও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তা আর প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ। রোববার তিনি এ কথা বলেন।
১৯৬৭ সালের এ যুদ্ধে সিরিয়া, মিসর ও জর্ডানের বিপক্ষে বিজয়ী হয় ইসরাইল। এ সময় তারা দখল করে নেয় সিনাই উপত্যকা, গোলান হাইটস, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেম। সে যুদ্ধে মিসরের প্রায় ১১ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়।
সে বছরের ৫ জুন ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও ১০০ মিসরীয় সৈন্যের একটি এলিট গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের স্থানটি ছিল ইসরাইলের ১৯৪৮ সালের সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থিত কিবুৎজ নাহশন নামক একটি বসতি এলাকায়। ওই স্থানটি বর্তমানে অবৈধভাবে দখল করা পশ্চিম তীরের অন্তর্গত।
নাহশন এলাকায় নিযুক্ত ইসরাইলি বাহিনীর একজন সেনা কমান্ডার জিভ ব্লোচ জানিয়েছেন, মিসরীয় সৈন্যরা ‘দ্বন্দ্ব’ ও ‘আতঙ্কগ্রস্ত’ হয়ে এখানে যুদ্ধে হেরে যায়।
এ সময় ২৫ জন মিসরীয় সৈন্যকে আগুনে পুড়িয়ে ও ফসফরাস সেল দ্বারা হত্যা করা হয়। আর সরাসরি গুলিবিনিময়ে মারা যাওয়া সৈন্য মিলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০ জনে।
এর কয়েক দিন পর ইসরাইলি সৈন্যরা ২০ মিটারের একটি গণকবর খুঁড়ে এবং নিহত মিসরীয় সৈন্যদের সেখানে একসাথে পুঁতে রাখে। তাদের এমন অবস্থা করা হয় যেন পরবর্তীকালে আর তাদের শনাক্ত করা না যায়।
বর্বর এ ঘটনার এক বছর পর স্থানীয় এক বাসিন্দা এক পুস্তিকায় লিখেছিলেন ওই স্থানটি থেকে তিনি কেমন দুর্গন্ধ পেতেন। পরবর্তী সময়ে যখন তিনি ওই স্থানে যান তখন তিনি মিসরীয় ওই সৈন্যদের শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখতে পান।
ওই স্থানটি এখন মিনি ইসরাইল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। যেটি পর্যটকদের বেশ আকর্ষণ করে।
এ গণকবরের তথ্য এতদিন ধরে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। কারণ ধারণা করা হয়েছিল, এটি আঞ্চলিক উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। একটি সেনাসূত্র হারেৎজকে এ কথা বলেছে।
লাপিদের কার্যালয় বলেছে, দুটি ইসরাইলি পত্রিকা এ বিষয়ে খবর প্রকাশের পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এক টেলিফোন কলে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি ওই গণকবর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।
প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী লাপিদ ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে ‘গভীরভাবে’ বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মিসরীয় কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে আপডেট জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মিডল ইস্ট আই



