যুক্তরাষ্ট্র

আদালতে ট্রাম্প যা বললেন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল ফৌজদারি মামলায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে, অফিস ছেড়ে যাওয়ার সময় বেআইনিভাবে জাতীয় নিরাপত্তার নথিপত্রগুলো নিজের কাছে রাখা এবং সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা বলার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দায়ের করা এই ফৌজদারি মামলাটি আগামী বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নামা ট্রাম্পের জন্য আরেকটি আইনি ধাক্কা। ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে জয়ের জন্য প্রচারণা চালানোর সময়ও এই আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি ইতোম্যেধই নিউ ইয়র্কে আরেকটি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আছেন, যার বিচার আগামী মার্চে শুরু হওয়ার কথা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার শুরু হতে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
ট্রাম্প নীল স্যুট এবং লাল টাই পরে আদালতে আসেন। তিনি একটি চেয়ারে হেলান দিয়ে ভ্রু কুঁচকে বসে ছিলেন।

৪৭ মিনিটের শুনানির সময় তিনি কোনো কথা বলেননি। ট্রাম্পকে কোনো শর্ত বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই আদালত থেকে বের হতে দেওয়া হয়। গুডম্যান রায় দেন, মামলার সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
ট্রাম্পের সহযোগী ওয়াল্ট নাউটা, যিনি এই মামলায় অভিযুক্ত।

তিনিও ট্রাম্পের সঙ্গে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। তবে ২৭ জুন পর্যন্ত তিনি আবেদন করতে পারবে না, কারণ তার স্থানীয় আইনজীবী নেই। তাকেও কোনো শর্ত ছাড়াই আদালত ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং অন্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা না বলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত ত্যাগের সময় বাইরে ট্রাম্পের সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছিল ‘আমরা ট্রাম্পকে ভালোবাসি।’ আদালত প্রাঙ্গণ নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা ছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে এটি ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার আদালত সফর। ট্রাম্পই প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে ফেডারেল অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাম্প বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি কোনো অন্যায় করেননি বলে দাবি করেছেন। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিযোগিতা থেকে দূরে সরাতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

শুনানির পর একটি রেস্তোরাঁয় বিরতি নেন ট্রাম্প এবং সমর্থকদের বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘কারচুপি’, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ‘পতন’-এর দিকে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ব্যক্তিগত জিম্মায় রাখার মামলাসহ মোট ৩৭টি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে নিজের গলফ ক্লাব থেকে বিমানযোগে মিয়ামিতে আসেন ট্রাম্প।

এর আগে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে নিজের গলফ ক্লাবে ছিলেন তিনি, সেখান থেকেই বিমানযোগে মিয়ামিতে উড়ে আসেন। সোমবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) মিয়ামির গলফ রিসোর্টে নিঃশব্দে হেঁটে বেড়ানোর সময় তাকে অস্থির দেখা গেছে বলে বিবিসি জানিয়েছিল। আবার রেস্তোরাঁয় আসা অল্প কিছু অতিথির উদ্দেশে বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন তিনি, এর পাশাপাশি উল্লাসরত একদল পুরুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন।

তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বলা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব নথি নিজের ফ্লোরিডা এস্টেটের বলরুমে ও বাথরুমে রাখার অভিযোগ আনা হয় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তিনি নথিপত্র পরিচালনার তদন্তেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউটররা বলেছেন, ট্রাম্প যখন অফিস ছেড়েছিলেন তখন তিনি প্রায় ৩০০ গোপন নথি নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রে ‘মার-এ-লাগোত’-তে নিয়ে গিয়েছিলেন। পাম বিচে সমুদ্রের সামনে এই অবকাশযাপন কেন্দ্রের অবস্থান। এটি ব্যক্তিগত সদস্যদের ক্লাব হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

মার-এ-লাগোতে গোপন এই নথিগুলো রাখার জন্য অনুমোদিত স্থান ছিল না। কিছু নথি বলরুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেখানে অনুষ্ঠানে সবাই জড়ো হত। আরো নথি পাওয়া যায় বাথরুম, ট্রাম্পের অফিস এবং বেডরুমে।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension