আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি ট্রাম্পের
আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে বারবার নির্দোষ দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জো বাইডেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলেও উল্লেখ করেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জুন) ফ্লোরিডার একটি আদালতে ফৌজদারি অভিযোগের জবাব দেন তিনি। খবর রয়টার্স।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় বেআইনিভাবে জাতীয়-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথি সঙ্গে নিয়ে যান ট্রাম্প। নথির সন্ধানে যাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিথ্যাও বলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত ৩৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফ্লোরিডার ফেডারেল আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ট্রাম্পকে গ্রেফতার দেখিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় শুনানি করেন বিচারক জনাথন গুডম্যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার শুরু হতে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ, পরবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার মাঝে ট্রাম্পকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
এদিন নীল স্যুট ও একটি লাল টাই পরে আদালতে আসেন ট্রাম্প। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেছিলেন তিনি। তবে ৪৭ মিনিটের শুনানির সময় কোনো কথা বলেননি।
আদালত ট্রাম্পকে কোনো শর্ত বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। কোনো নগদ জামানতেরও প্রয়োজন হয়নি। তবে মামলার সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারবেন না।
অভিযোগ শোনার পর ট্রাম্প বারবার নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। তাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। গতকাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রসিকিউশনে নেতৃত্ব দেয়া বিশেষ কাউন্সেল জ্যাক স্মিথকে ‘ট্রাম্প বিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
শুনানির পর একটি কিউবান রেস্তোরাঁয় থামেন ট্রাম্প। এ সময় সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। কারচুপি ও দুর্নীতির উল্লেখ করে বলেন, আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
অবস্থাদৃষ্টে আইনি সমস্যা রিপাবলিকান ভোটারদের মাঝে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি। গত সোমবার রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়নের জন্য বড় ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। ৮১ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। যার সর্বোচ্চ সাজা ২০ বছরের কারাদণ্ড। ট্রাম্পের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সাজা এটি। কারণ দোষী সাব্যস্ত হলে একইসঙ্গে সব সাজা শুরু হবে।
সাম্প্রতিক মাসে দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে গেলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। এর আগে এপ্রিলে পর্ন তারকাকে ঘুষ দেয়ার মামলায় নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হন তিনি।
ট্রাম্পই প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে ফেডারেল অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।



