
‘‘ইমরান কাশ্মীরের কথা বলেন কোন মুখে’’ তোপ শাহিদ আফ্রিদির
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক, আন্তর্জাতিক রিপোর্ট: নিজের ঘর সামলানোরই মুরোদ নেই পাকিস্তানের, কাশ্মীর নিয়ে কথা! না, এই মন্তব্য কোনও ভারতীয় নেতা-মন্ত্রী বা সেনাকর্তার নয়। বক্তার নাম শাহিদ আফ্রিদি। দেশের প্রাক্তন এই ক্রিকেট তারকার মন্তব্যে নিশ্চিতভাবেই মুখ পুড়ল পাকিস্তান সরকারের। যে সরকারের নেতৃত্ব আবার বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক, ইমরান খান। শুধু ইমরানের সরকারই নয়, আফ্রিদির মন্তব্যে মুখে চুন-কালি লাগার জোগাড় পাকিস্তানে ক্ষমতার আরও দুই সমান্তরাল অক্ষ, সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এরও। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে আরও একটি বিষয়। ঘরের মাটিতে নয়, আফ্রিদির এই ‘বিগহিট’ বিলেতের মাটিতে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে। যা নিয়ে তোলপাড় গোটা পাকিস্তান।
পাক ক্রিকেট ভক্তদের কাছে আফ্রিদির জনপ্রিয়তা এখনও অমলিন। যখন ছক্কা হাঁকাতেন, গ্যালারি থেকে রব উঠত, ‘বুম, বুম আফ্রিদি’। কিন্তু তাঁর এবারের ছক্কা ‘ব্যুমেরাং’ হয়ে দাঁড়াল পাকিস্তানের কাছেই। কিন্তু ঠিক কী বলেছেন ৩৮ বছরের এই প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা? ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, পাকিস্তান কাশ্মীর চায় না…এমনকী নিজের দেশের চারটি প্রদেশ সামলানোর মুরোদটুকুও নেই। এরপর ইমরান খান কাশ্মীর নিয়ে কথা বলেন কোন মুখে। আফ্রিদির এই তোপে বিতর্ক শুরু হয়েছে পাকিস্তানের মধ্যেই। বলা যায়, আফ্রিদির এই বিগহিটে ইমরান বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে।
তবে, পাকিস্তানের ঘর সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কাশ্মীরে রক্তপাত বন্ধের পক্ষেও সওয়াল করেছেন এই প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার। দাবি তুলেছেন কাশ্মীরের স্বাধীনতার। তাঁর কথায়, ‘আমি বলি পাকিস্তান কাশ্মীর চায় না। তা ভারতকেও দিতে হবে না। কাশ্মীর স্বাধীন হোক। অন্তত মানবতা বেঁচে থাকুক। মানুষকে বাঁচতে দেওয়া হোক। বড় বিষয় হল ইনসানিয়াত। সেখানে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যা যন্ত্রণাদায়ক। যে কোনও মৃত্যু, তা সে যে সম্প্রদায় মানুষেরই হোক না কেন, বেদনাদায়ক।’ আফ্রিদির এই মন্তব্যেরই ভিডিও পোস্ট হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এর আগে এপ্রিল মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় আফ্রিদির আরও একটি মন্তব্য নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, কাশ্মীরের অবস্থা ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। হস্তক্ষেপ করুক রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তার আগে ২০১৬ সালে আফ্রিদির দাবি ছিল, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সমর্থন করেন বহু কাশ্মীরি ফ্যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জবাবও ভালোমতোই পেয়েছিলেন। ট্যুইটারে ভারতীয়দের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ছিল, জঙ্গিদের নিরাপদ ঘাঁটি পাকিস্তানের মাটি। এমনকী মুম্বই হামলার মাথা হাফিজ সইদের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সেখানে অবাধে ঘুরে বেড়ায়।
ঘটনাচক্রে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের নতুন সরকার নজরদারির সর্বশেষ তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলেছে হাফিজ সইদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নাম। বলা হচ্ছে, পাক সেনার চাপে পড়েই এই সিদ্ধান্ত। দেশের চারটি প্রদেশের পাশাপাশি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গাতেও হোঁচট খেতে হচ্ছে ইমরান প্রশাসনকে। ঋণের বোঝা সামলাতে সাহায্যের আশায় দেশে দেশে ঘুরছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তারই মধ্যে আফ্রিদির এবারের মন্তব্য ইমরানের সরকারকে নিশ্চিতভাবেই বিড়ম্বনায় ফেলবে।



