ইমরান খানের অধ্যাদেশ, বিরোধীদের প্রতিবাদ
রূপসী বাংলা ঢাকা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশের মাধ্যমে সরকার আইনি ব্যবসা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার এই ধারণাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে বিরোধী দলগুলো।
বিরোধী নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘১৮ তম সংশোধনীতে সংসদের বাইরে আইনের বিকল্প হিসেবে আইন প্রয়োগ করার সরকারের ইচ্ছাকৃত ক্ষমতা কমানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বুঝা যায় দেশের সংবিধান সম্পর্কে তার কোনও জ্ঞান নেই।’
গেল ৩ ডিসেম্বর সোমবার এক টিভি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও আইনটি প্রণয়নের জন্য সিনেটে পিটিআই ও তার সহযোগিদের বেশিরভাগ সদস্যের অমত রয়েছে, তবে তারা বিরোধী দলের সমর্থন নিতে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না এবং আইন প্রণয়ন হবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়া সরকার কিভাবে আইনি সংস্কার নিশ্চিত করবে তা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন কার্যকর করা হবে। বিরোধী দলের সঙ্গে বসা মানে হল তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো বন্ধ করা,এজন্য কখনই তিনি তাদের সঙ্গে বসবেন না।
সংবিধানের ৮৯(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সিনেট বা জাতীয় অধিবেশনের সময় যদি রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকে তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন এবং প্রচার করতে পারেন। বিরোধীদলীয় নেতাদের মতামত যে, ইমরান খান বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়া আইন প্রণয়ন করতে পারেন না।
প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের নেতা -নওয়াজ (পিএমএল-এন) আহসান ইকবাল প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘অসম্মান এবং সংসদ অবমাননা’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ইমরান খান আবারও দেখিয়েছেন যে সংসদ কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে তার কোনও বোধগম্যতা নেই। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী আইনগুলি সর্বদা ‘খারাপ আইন’ বলে বিবেচিত হয়েছে। একইভাবে, সাবেক সিনেট চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা রাজা রাব্বানীও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের ব্যাপারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আইনি কাজের বিষয়ে ইমরান খান তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।



