
ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস এর ব্যাটে বাংলাদেশের সহজ সিরিজ জয়
রাশিদুন নবী শুভ্র
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক: তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ঢাকায় ২৮ রানে জেতার পর চট্টগ্রামেও সাফল্য ধরা দিলো বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় টাইগাররা। সেই লক্ষ্যে বেশ ভালোভাবে কাজ সারলেন বোলাররা। জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করল স্বাগতিকরা। ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
বুধবার চট্টগ্রাজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সাইফউদ্দিনের পেসে ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে বেধে দেয় জিম্বাবুয়কে। ১৮ রানেই মাসাকাদজাকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। পরে ব্রেন্ডন টেইলরকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠেন সিফাস জুওয়াও। দুর্দান্ত খেলছিলেন এ জুটি। প্রতি ওভারে পাঁচের ওপরে রান তুলছিলেন তারা। ধীরে ধীরে চোখ রাঙাতে থাকেন টেইলর-জুওয়াও। তবে তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। দলীয় ৭০ রানে ফজলে মাহমুদের ক্যাচ বানিয়ে জুওয়াওকে (২০) ফেরান তিনি।
কিন্তু থেকে যান টেইলর। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন শন উইলিয়ামস। তাদের ব্যাটে ছুটছিল জিম্বাবুয়ে। এতে নেতৃত্ব দেন টেইলরই। অবশেষে থামে তার চোখরাঙানি। দলীয় ১৪৭ রানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটি তুলে নেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৭৩ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৭৫ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলে ফেরেন টেইলর। তার বিদায়ে ভাঙে ৭৭ রানের জুটি।

সহযোদ্ধা হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি উইলিয়ামস। প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনিও। আবারো শিকারি সাইফউদ্দিন। দুর্দান্ত কাটারে উইলিয়ামসকে (৪৭) মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি।
পরে ক্রিজে আসেন সিকান্দার রাজা। ধীরে ধীরে সেট হয়ে যান তিনি। এক পর্যায়ে ব্যাটে ছোটাতে থাকেন রানের ফোয়ারা। তাতে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তবে হঠাৎই খেই হারান রাজা। মাশরাফির শিকারে পরিণত হন তিনি। মাত্র ১ রানের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। তখন পর্যন্ত ইনিংসের নাটাই ছিল জিম্বাবুয়ের হাতে।
তবে খানিক বাদে মুরকে মিরাজের তালুবন্দি করে উইকেটের খাতা খোলেন মোস্তাফিজুর রহমান। অল্প ব্যবধানে চিগুম্বুরাকে সাইফ ফেরালে হঠাৎ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান তুলতে সক্ষম হয় লালচাঁদ রাজপুতের দল।

জবাবে বাংলাদেশ দল খেলতে নেমে ৪৪.১ ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই লক্ষ্যকে একেবারে সহজ করে ছেড়েছেন লিটন ও ইমরুল। দুজনের ১৪৮ রানের জুটিতে শুরু থেকে দাপট দেখায় বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস এর দুর্দান্ত ব্যাটে ভর করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচে ২৩৪ রান করেন কায়েস।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল লিটন দাসের। আম্পায়ার এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নেন লিটন। ভাগ্য ফেবারে থাকায় লাইফ পান তিনি। বেশ আগ্রাসী ব্যাটিং করেন লিটন। ৪৬ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে ফিফটি হাঁকানোর পরও রানের গতি ধরে রাখেন তিনি। কিন্তু ২৪তম ওভারে সিকান্দার রাজার বলে কভারে মারতে গিয়ে তিরিপানোর ক্যাচ হন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৭৭ বলে ১২ চার ও ১ ছয়ে ৮৩ রান করেন লিটন।
ভালো শুরুর পরও তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ফজলে মাহমুদ রাব্বি। আগের ম্যাচে ৪ বলে শূন্য রানে আউট হওয়া ফজলে রাব্বি স্টাম্পিং হওয়ার আগে খেলেন ৫ বল। মিরপুরে অভিষেক ম্যাচে ব্যাটে বলে ব্যর্থ রাব্বিকে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে খেলানোর আগে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। তবে ফজলে রাব্বির কাঁধে হাত রেখে অধিনায়ক বলেছেন, একটা ম্যাচ দিয়ে কারো পারফরম্যান্স বিচার করা ঠিক নয়। অধিনায়কের কাছ থেকে অভয় পেয়েও প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেননি ফজলে রাব্বি। এদিনও ফেরেন শূন্য রানে।
২৫ রান করার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফর্মেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিক। দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া পথে এগিয়ে যেতে থাকেন মুশফিক ও মোহাম্মদ মিঠুন। ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে ছয় মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নেন মিঠুন। তাদের ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৩৫ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে ২৫০ রান করে তারা। মুশফিক ৪০ ও মিঠুন ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এদিন বাংলাদেশের সেরা বোলার সাইফউদ্দিন। ১০ ওভারের কোটা পূরণ করে ৪৫ রান খরচায় ১ মেডেনসহ ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহর শিকার ১টি করে উইকেট।



