
উন্নত দেশগুলোর রাজস্ব নীতি বিশ্বকে মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে
উন্নত দেশগুলো যেভাবে তাদের মুদ্রা ও রাজস্বনীতি পরিচালনা করছে, তা বিশ্বকে একটি মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আংকটাড)। সংস্থাটির হিসাবে এর ফলে যে ক্ষতি হবে তার মাত্রা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও ২০২০ সালে কোভিড-১৯ জনিত আঘাতের চেয়ে বেশি হতে পারে।
আংকটাডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর (চীন বাদে) ভবিষ্যৎ আয় ৩৬০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত আংকটাডের ‘বাণিজ্য ও উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৬৯টি দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ১০ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। এসব দেশে বাস করছে ২১০ কোটির বেশি মানুষ।
করোনা এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। মন্দার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হ্রাস পাবে, বিনিয়োগ কমে যাবে। এর প্রভাবে কর্মসংস্থানের গতিও কমবে, বাড়বে বেকারত্ব। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। এর আগে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ ধরনের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে। এবার আংকটাডের প্রতিবেদনেও একই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত দেশগুলো চলতি বছর থেকেই মুদ্রার প্রবাহ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। আগামী বছর এর প্রভাব আরো প্রকট হবে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা আরো বাধাগ্রস্ত হলে মন্দা আরো প্রকট হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দুই দেশের যুদ্ধপরিস্থিতির ওপর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছর প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। গত মার্চ পর্যন্ত আশা করা হয়েছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে না। বরং কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর তা আরো কমে ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যাবে। এর প্রভাবে ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিও কমবে। তবে আগামী বছর চীনসহ কয়েকটি দেশের প্রবৃদ্ধির হার সামান্য বাড়তে পারে। তবে তা গত বছরের চেয়ে কম।
আংকটাডের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালে হয়েছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, চলতি বছর তা কমে হতে পারে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী বছর তা আরো কমে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। কানাডায় এ বছর প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে। চীনের প্রবৃদ্ধি গত বছর হয়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ, এ বছর তা কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর তা সামান্য বেড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি গত বছর হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এ বছর তা কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর আরো কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যেতে পারে।



