খেলা

ওয়ার্নারের শতরানেও হার অস্ট্রেলিয়ার, সেমিফাইনালে কিউয়িদের মুখে লিগ চ্যাম্পিয়ন ভারত

রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : ফ্যাফ ডু’প্লেসির পালটা ডেভিড ওয়ার্নারের শতরান৷ ভ্যান ডার দাসেনের হাফসেঞ্চুরির জবাবে অ্যালেক্স ক্যারির ঝোড়ো অর্ধশতরান৷ তবু শেষবেলায় রাবাদা, প্রিটোরিয়াস, ফেলুকাওয়োদের মিলিত আক্রমণে পর পর উইকেট হারানোর মাশুল দিতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে৷ ম্যাঞ্চেস্টারে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে লিগের শেষ ম্যাচে ১০ রানের সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে হেরে বসে অস্ট্রেলিয়া৷ ফলে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় অজিদের৷

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওবারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩২৫ রান তোলে৷ জবাবে ৪৯.৫ ওভারে ৩১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া৷ শেষ ম্যাচ হেরে যাওয়ায় ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে অস্ট্রেলিয়া৷ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ভারত৷ ফলে সেমিফাইনালে কোহলিরা সামনে পেয়ে যায় ১১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ডকে৷ অস্ট্রেলিয়াকে সামলাতে হবে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তিন নম্বরে থাকা আয়োজক ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ৷

আগামী ৯ জুলাই, মঙ্গলবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টিম ইন্ডিয়া প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে নামবে কিউয়িদের বিরুদ্ধে৷ ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড৷

ম্যাঞ্চেস্টারে ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকা৷ ৬.১ ওভারে দলগত ৫০ রানের গণ্ডি টপকে যায় প্রোটিয়ারা৷ ওপেনিং জুটিতে ৭৯ রান তুলে আউট হন মার্করাম৷ ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৭ বলে ৩৪ রান করে লায়নের বলে স্ট্যাম্প আউট হন তিনি৷

ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির গণ্ডি পার করে ক্রিজ ছাড়েন অপর ওপেনার কুইন্টন ডি’কক৷ ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫১ বলে ৫২ রান করে লায়নের বলেই স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন ডি’কক৷ ভ্যান ডার দাসেনকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ১৫১ রান যোগ করেন ডু’প্লেসি৷ ব্যক্তিগত শতরানে পৌঁছনোর পর বেহরেনডর্ফের বলে স্টার্ককে ক্যাচ দিয়ে বসেন প্রোটিয়া দলনায়ক৷ ৯৪ বলে ১০০ রানের ইনিংসে তিনি ৭টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন৷

অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন দাসেন৷ তিনি ৯৭ বলে ৯৫ রান করে কামিন্সের শিকার হন৷ দাসেন ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন৷ ডুমিনি (১৪) ও প্রিটোরিয়াসকে (২) পর পর সাজঘরে ফেরান স্টার্ক৷ ফেলুকাওয়ো অপরাজিত থাকেন ব্যক্তিগত ৪ রানে৷

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক ও নাথন লায়ন৷ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন প্যাট কামিন্স ও জেসন বেহরেনডর্ফ৷ স্টিভ স্মিথ, মার্কাস স্টোইনিস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কোনও উইকেট পাননি৷

পালটা ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই নিয়মিত অন্তরে উইকেট হারাতে থাকে৷ তাহিরের বলে ফিঞ্চ আউট হন ৩ রান করে৷ স্মিথ ৭ রান করে প্রিটোরিয়াসের শিকার হন৷ একবার চোট পেয়ে অবসৃত হয়ে পুনরায় ব্যাট করতে নামা খোওয়াজা ১৮ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷ তাঁকে ফিরিয়ে দেন রাবাদা৷ স্টোইনিস ২২ রান করে রানআউট হন৷ ম্যাক্সওয়েল ১২ রান করে রাবাদার বলে সাজঘরে ফেরেন৷

অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্নার ১০৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন৷ শেষে চলতি বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় শতরান করে ক্রিজ ছাড়েন ডেভিড৷ ১৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১১৭ বলে ১২২ রান করে ওয়ার্নার প্রিটোরিয়াসের বলে আউট হন৷ ফেলুকাওয়োর বলে কামিন্স ফেরেন ৯ রান করে৷ স্টার্ককে ১৬ রানের মাথায় বোল্ড করেন রাবাদা৷ ১১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৬৯ বলে ৮৫ রান করা ক্যারিকে সাজঘরের পথ দেখান মরিস৷ নাথন লায়নকে ৩ রানে আউট করে অজি ইনিংসে দাঁড়ি টেনে দেন ফেলুকাওয়ো৷ ব্যক্তিগত ১১ রানে অপরাজিত থাকেন বেহরেনডর্ফ৷

প্রোটিয়াদের হয়ে রাবাদা ৩টি এবং প্রিটোরিয়াস ও ফেলুকাওয়ো ২টি করে উইকেট দখল করেন৷ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন ইমরান তাহির ও ক্রিস মরিস৷ ম্যাচের সেরা হয়েছেন ডু’প্লেসি৷ এই ম্যাচের পরেই ওয়ান ডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তাহির ও ডুমিনি৷

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension