
কমরেড! ব্রিগেডে কংগ্রেসীদের ভুলে গেলেন …
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ব্রিগেট শেষ৷ কিন্তু বাংলায় প্রদেশ কংগ্রেস নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি বাম নেতারা৷ ২০১৬ সালে আসন সমঝোতা করে বাংলায় বিধানসভায় নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন কমরেড এবং কংগ্রেসীরা৷ ফল আশানরূপ হয়নি৷ বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাও হারান সূর্যকান্ত মিশ্ররা৷ রবিবার, মোদী-মমতাকে পর্যাযক্রমে আক্রমণ করেছেন বাম নেতারা৷ কিন্তু, রাহুল-সনিয়া-প্রদেশ কংগ্রেস যেন থেকে গিয়েছে আলোচনা থেকে অনেক দূরে৷
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র মোদী-মমতার অশুভ আঁতাত নিয়ে সরব হয়েছেন, জানুয়ারির ১৯ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেড নিয়ে কটাক্ষের সুরে বলেছেন, কাউকে প্রধানমন্ত্রী বানানো জন্য ব্রিগেড করা হয়েছে, কিন্তু প্রদেশ কং বা সোমেন মিত্র কিংবা আবদুল মান্নানরা থেকে গিয়েছেন অনুচ্চারিত৷ রবিবারের পড়ন্ত বেলায় কোনও এক ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সূর্যাস্ত হয়েছে৷
মমতার ডাকা ব্রিগেডে বার্তা পাঠিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী৷ সনিয়ার শুভেচ্ছা বার্তা মঞ্চে পাঠ করেন লোকসভার বিরোধীদলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে৷ রাগে-অভিমানে ব্রিগেডের মঞ্চে যেতে অস্বীকার করেছিলেন আবদুল৷ কিন্তু, মমতা-মোদী বিরোধীতায় বাম-কংগ্রেস যে এক হয়ে লড়াই করতে পারবে না ১৯ জানুয়ারির পরই ঠিক হয়ে গিয়েছিল৷ ‘দোস্তি’র কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা গিয়ে গিয়েছে রবিবার৷
রাজনৈতিক মহলের মতে লোকসভা ভোটমুখী দেশে বাংলায় সিপিএমের রাজনৈতিক অবস্থান সুনিশ্চিত করতে সিপিএমকে বাড়তি তাগিদ দেখাতে হবে৷ বিধাননগরের সিজিও কমপ্লেক্সে একটি প্রতিবাদ সভায় কংগ্রেস-সিপিএম সমঝোতা নিয়ে সূর্যকান্ত মিশ্রের বক্তব্য কয়েকমাস আগে বিতর্ক তৈরি করেছিল৷ সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি-এর মতো বামফ্রন্ট শরিকরা আপত্তি জানায়৷ ৪২টি আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার হুমকি দেয় ফরওয়ার্ড ব্লক৷ শরিকদের মতামত ছাড়া কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও সমঝোতাই করা সম্ভব নয় তা বুঝতেই পেরেছিল সিপিএম৷ ২০১৬ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট থেকে ‘লাভের গুড়’খেয়েছিল কংগ্রেসই৷ জোটেও থেকে ভোট কমেছিল সিপিএম সহ বামদলগুলির৷



