
কর্ণাটক কাঁটা: প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ভেঙে দিল হাইকমান্ড
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: দুই দলেরই দাবি, কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট সরকার পড়ে যাওয়ার কোনও ভয় নেই৷ সব ঠিক আছে৷ কিন্তু আদৌ যে সব ঠিক নেই তা প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী এবং পরে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের পর জলের মতো পরিস্কার৷ দুই দলের মধ্যে তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাধ্য হয়ে হাইকমান্ডকে হস্তক্ষেপ করতেই হল৷ ভেঙে দেওয়া হল কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি৷ শুধুমাত্র সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতি পদে কোনও রদবদল না ঘটিয়ে বাকি সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷
কর্ণাটকে শুরু থেকেই কংগ্রেস ও জেডি(এস) এর মধ্যে সম্পর্ক মসৃণ ছিল না৷ ডামাডোলের মধ্যে দিয়ে চলছিল জোট সরকার৷ সরকার ফেলে দিতে বিজেপিও কম ছল চাতুরী করেনি৷ সেই বাধা উপেক্ষা করে টিকে যায় জোট সরকার৷ কিন্তু দুই দলের পারস্পরিক কোন্দল মেটানো যায়নি৷ বরং লোকসভা ভোটে খারাপ ফল করার পর সেই অসন্তোষ বাড়তে বাড়তে এখন তা চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে৷ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি যে ফের সরকার ফেলার খেলায় মেতে উঠতে পারে তা বিলক্ষণ বুঝেছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ আর এমনিতেও হাতে গোনা কয়েকটা রাজ্যে টিমটিম করে জ্বলছে কংগ্রেসের বাতি৷ তাই কর্ণাটক বাঁচাতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল হাইকমান্ড৷
বুধবার অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বিবৃতি দিয়ে জানান, কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতিতে পদে রেখে দেওয়া হয়েছে৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও জানান, রাহুল গান্ধী এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন৷ এখন নতুন করে কমিটি তৈরি করা হবে৷ এছাড়া জেলা ও ব্লক স্তরেও নেতৃত্বে অনেক রদবদল ঘটানো হবে৷
এই ঘটনাপ্রবাহের আগে দল বিরোধী কাজের জন্য বিধায়ক রোশন বেইগকে বহিস্কার করেছে কংগ্রেস৷ লোকসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের দায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও দীনেশ গুন্ডু রাওয়ের উপর চাপান৷ তারপরেই দল থেকে বহিস্কার করা হয় তাঁকে৷ রোশন জানান, তিনি কখনোও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেননি৷ যা সত্যি সেটাই বলেছেন৷ দল থেকে তাড়ানোর জন্য সিদ্দারামাইয়াকে দুষেছেন বেঙ্গালুরুর শিবাজিনগরের বিধায়ক৷
এদিকে আরও একবার সরকার চালানো নিয়ে নিজের মনোকষ্টের কথা বলে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী৷ জানান, খুব মনোকষ্টে আছেন তিনি৷ মসৃণভাবে সরকার চালাতে চান এবং সেই চেষ্টাই করে চলেছেন৷ কিন্তু সরকার চালাতে গিয়ে প্রতিদিন দারুণ বেদনার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে৷ সেই কষ্টের কথা সবাইকে বলতে চান৷ কিন্তু পারছেন না৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তির পরই আরও একবার দুই দলের ফাটল প্রকাশ পেল বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের৷



