
কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর ‘চিন্তিত’ মালালা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ৩৭০ ধারা বিলোপর ফলে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ হয়ে অভিন্ন ভারতের অংশ হবে কাশ্মীর। চলে গিয়েছে কাশ্মীরের স্পেশাল স্ট্যাটাস। বিধানসভাসহ কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চল হবে কাশ্মীর। পাবে দেশের বাকি রাজ্যগুলির মত পূর্ণসম্মান ও সুবিধা। এই সিদ্ধান্ত আসার আগে থেকেই সেখানের ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যহত হয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত পাকিস্তানি সমাজকর্মী মালালা ইউসাফজাই কাশ্মীরে শিশু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, “আমি যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই দেখছি কাশ্মীরের মানুষ লড়াই করে জীবন কাটাচ্ছেন। আরও স্পষ্ট করে বললে আমার মা, বাবা যখন ছোট ছিল ও আমার দাদু-ঠাকুমা যখন কমবয়সী ছিল সেইসময় থেকেই এই পরিস্থিতি চলছে।”
বাইশ বছরের এই নোবেলজয়ী অনুরোধ করেছেন কাশ্মীরের মাটিতে শান্তি বজায় রাখতে। এই ইস্যুতে যেন যেকোনও রকম অশান্তি এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সকল কমিউনিটির কাছে। মালালা আরও বলেন, “আজ আমি কাশ্মীরের শিশু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। এই হিংসার পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তাঁদের জীবন এবং এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁদেরই।”
পাকিস্তান থেকে ভারতের রাষ্ট্রদূত সরিয়ে নেওয়ার ঠিক একদিন পরেই এই ঘটনা। পাকিস্তান গতকাল ভারতের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তিতে ইতি টেনেছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক শেষ করারও কথা জানিয়েছে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর সমস্তরকম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তাঁর প্রভাব পড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রপুঞ্জে এই বিষয়ে সরব হবে বলেও জানিয়েছে।
২০১২ সালে আন্তর্জাতিক নাম হয়ে উঠল তখন অস্ত্রধারী কিছু দুষ্কৃতি তাঁর স্কুল বাসে উঠে চিৎকার করে প্রশ্ন করে, “মালালা কে?” এই বলে তাঁর দিকে গুলি করা হয়। এরপরেই নারীশিক্ষা ও মানবাধিকারের মুখ হয়ে উঠল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ব্রিটেনে অত্যাধুনিক চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন মালালা। ২০১৪ সালে নারীশিক্ষা ও মানবাধিকার প্রচার করায় বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠতম ব্যক্তি হিসাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান তিনি।



