
কিউবাকে দেয়া ‘সন্ত্রাসী’ তকমা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা বাইডেন প্রশাসনের
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, কিউবার ব্যাপারে একটি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে, এবং আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই যা কিউবাকে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণাকে সমর্থন করে।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিউবাকে দেয়া ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্রের’ তকমা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। পরিকল্পনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত এক সূত্র এ তথ্য দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এ খবরটি প্রকাশ করেছে, যেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে প্রতীকী হিসেবে দেখা হতে পারে, যা স্থায়ী নীতিতে রূপ নাও নিতে পারে।
২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের কথা থাকায় এই সিদ্ধান্তকে আসন্ন প্রশাসন দ্রুতই উল্টে দিতে পারে। তবুও বাইডেন প্রশাসন এ পদক্ষেপের ব্যাপারে এগিয়ে গেছে এবং কংগ্রেসকে তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে জানিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলেছে এপি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, কিউবার ব্যাপারে একটি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে, এবং আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই যা কিউবাকে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণাকে সমর্থন করে।
এদিকে, কিউবার কর্মকর্তারা এই ঘোষণাকে বহু প্রতীক্ষিত বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বাইডেনের পদক্ষেপকে ‘ইতিবাচক’ তবে ‘সীমিত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেছেন, কিউবাকে কখনোই সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল না। এটি ছিল স্বেচ্ছাচারী এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তকম— যা কিউবার জনগণের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে, অর্থনীতির ক্ষতি করেছে, অভাব সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনকে উৎসাহিত করেছে।
তবে কিউবার বিরুদ্ধে এই তকমা প্রত্যাহার করা হলেও তা স্থায়ী নাও হতে পারে। রিপাবলিকানরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। টেক্সাসের কিউবান-আমেরিকান আইনপ্রণেতা সিনেটর টেড ক্রুজ গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, আজকের সিদ্ধান্তটি ন্যায্যতার ভিত্তিতে অগ্রহণযোগ্য। কিউবা সরকারের দ্বারা চালিত সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হয়নি। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমার সহকর্মীদের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত পাল্টাতে এবং এর প্রভাব প্রশমিত করতে কাজ করব।
‘সন্ত্রাসী’ তকমা প্রত্যাহার করা হলে ‘বিভিন্ন অপরাধে’ অভিযুক্ত ৫৫৩ জন বন্দিকে মুক্তি দেবে বলে ঘোষণা করেছে কিউবা সরকার, যার মধ্যে ২০২১ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিরাও থাকতে পারে।
স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে, ১৯৮২ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের প্রেসিডেন্সির সময় কিউবাকে প্রথম ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যা করে বলেছে যে, গেরিলা গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিগত সন্ত্রাসীদের পরামর্শ, নিরাপদ আশ্রয়, যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা দেয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের জন্য কিউবাকে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল। যার প্রধান কারণ ছিল কিউবার সঙ্গে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এর জেরে কিউবার ওপর নেমে আসে কয়েক দশকের দীর্ঘ মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা।



