
কূটনীতিকদের জোটের দাবি – লক্ষ্য জানালেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: কূটনীতিকদের কাছে আগামী দিনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পাশাপাশি নতুন এই জোটের লক্ষ্য, উদ্দেশ্যের কথা জানিয়েছেন বিএনপি ও নবগঠিত ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর গুলশানের স্থানীয় এক হোটেলে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন কূটনীতিকরা। কাতার, অস্ট্রেলিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৩০টি দেশের কূটনীতিকরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হলে পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এই বিষয়ে কূটনীতিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, কূটনীতিকরা খুব উৎসাহী। তারা সবাই দেখতে চায় বাংলাদেশে সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন, সুষ্ঠু নির্বাচন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য তুলে ধরেন। এসময় কূটনীতিকরা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। কামাল হোসেন তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
নতুন এই ফ্রন্টের জোটের মূল নেতার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, এখানে কোনও একক নেতৃত্ব নেই। যৌথভাবেই এই জোট পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল কূটনীতিকদের বলেন, দেশে বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনও পরিবেশ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে তারা অবশ্যই নির্বাচনে যাবেন। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেন, আমরা বিদেশিদের সঙ্গে ৭ দফা ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এসব দাবি আমরা তাদের কাছে তুলে ধরেছি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, আমাদের দাবি ও লক্ষ্য তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আশা করি ভালো ফিডব্যাক পাব। সভার পর জোট শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, আজকে আমরা শুধু বাংলাদেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনার-কূটনৈতিকদের সাথে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় করেছি। অত্যন্ত সফলভাবে এই মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম অংশীদার বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, আব্দুল মান্নান, জমির উদ্দিন সরকার, সেলিমা রহমান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ অন্যরা।
অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ প্রমুখ বৈঠকে ছিলেন। সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ইতোমধ্যে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে। সিলেটে ২৩ অক্টোবর জনসভার পর চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতেও জনসভা করতে চায় তারা।



