
নির্বাচিত কলাম
কেউটে সাপ খোলস বদলায় স্বভাব বদলায় না
শাহরিয়ার কবির
এ কথা বহুবার বলেছি, জামায়াতে ইসলামী কৌশলগত কারণে বিভিন্ন সময়ে নাম বদলেছে। তাদের সহযোগীরাও অনেক দেশে নাম বদলেছে; মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড, ইন্দোনেশিয়ায় ঘেমা আল ইসলামিয়া দলগুলোকে কখনও জনরোষের কারণে, কখনও মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য, কখনও বা আত্মরক্ষার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নামে কাজ করতে আমরা দেখেছি। এসব দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ওহাবিবাদ বা রাজনৈতিক ইসলাম। উপমহাদেশে যেটাকে আমরা বলি মওদুদিবাদ। ইসলামের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল এদের মূল লক্ষ্য। এর সঙ্গে প্রকৃত ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামের নামে এরা গণহত্যা চালাতে পারে, বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে, অর্থাৎ মানবতাবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারে।
নামে কিছু যায়-আসে না। তাদের মূল লক্ষ্য ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলগত পার্থিব স্বার্থ সিদ্ধি করা। বাংলাদেশেও কয়েক মাস ধরে আমরা শুনছি, জামায়াতে ইসলামী নাম বদল করে ভিন্ন নামে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এটা তারা করবে একাত্তরের গণহত্যার বিচার থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য কিংবা সাম্প্রতিককালে দেশে যে হত্যা ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে, সেসবের বিচার থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য বা একই সঙ্গে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। আমাদের পরিস্কার বক্তব্য হচ্ছে- জামায়াতে ইসলামী বা এই দলের সদস্যরা ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ বা যে নামেই দল বা সংগঠন করুক না কেন, দলটির নেতাকর্মীরা একাত্তরের গণহত্যা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালের হত্যা ও সন্ত্রাসের দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারে না।
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হতে হবে এবং দল ও দলের নেতাকর্মী যারাই দায়ী হোক না কেন, তাদের শাস্তি পেতে হবে। জামায়াতের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সব সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, শত শত এনজিও ইসলামের নামে জামায়াতের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করছে। এসব এনজিও হয় বন্ধ করে দিতে হবে, নয়তো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। কারণ, জামায়াতের বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করছে। এসব প্রতিষ্ঠান জঙ্গি-মৌলবাদী সন্ত্রাসের যাবতীয় অর্থের জোগান দিচ্ছে। অবিলম্বে জামায়াতের এসব প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
জামায়াতের সংস্কারবাদী বা পদত্যাগী নেতারা এখন নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ১৯৭৬-১৯৭৯ জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ বা আইডিয়াল নামেও কাজ করেছে। এগুলো নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, কেউটে সাপ খোলস বদলায়, স্বভাব বদলায় না।
লেখক: সভাপতি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।



