আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর

গাজায় পোলিও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডিব্লিউএইচও) সহযোগিতায় গাজা উপত্যকা জুড়ে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রোববার থেকে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় গাজার মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশুকে পোলিও টিকা দেয়া হবে। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে হামাস-ইসরাইলের সংঘাত শুরু হয়। এতে কার্যত পুরো গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে গাজার শিশুরা। উপত্যকাটিতে পোলিও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করতেই এই কর্মসূচি শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কার্যক্রমটি ১লা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী তিন দিন চলবে বলে জানানো হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিন দিনে মোট ২৪ ঘণ্টা মানবিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল। ডিব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত দুইমাসে গাজায় পোলিও ভাইরাসের যে লক্ষণটি শনাক্ত করা হয়েছে তাতে এ পর্যন্ত এক শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে গত ২৫ বছরের মধ্যে পোলিও ভাইরাসে আক্রান্তের এটিই প্রথম ঘটনা। সম্ভবত মানবিক যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হতে পারে বলেও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হতে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর কর্মকর্তা জুলিয়েট তোমা বলেছেন, ‘এটি একটি বিশাল কর্মসূচির প্রথম পর্বের কয়েক ঘণ্টা সময়, যা বিশ্বের সবচেয়ে জটিল মুহূর্তের একটি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘দ্বন্দ্বে জড়িত পক্ষগুলোর জন্য এটি একটি পরীক্ষার সময়। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই শিশুদের সুরক্ষায় এই টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মত হওয়ার জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইসরাইল এবং হামাস এখনও যুদ্ধবিরতি কার্যকরে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তবে তারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশ শিশুকে পোলিও টিকার দুটি করে ডোজ নিশ্চিত করতে হবে। তবে গাজায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা বেশ দূরহ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কেননা গাজার বেশির ভাগ অঞ্চলই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যদি গাজার প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে এই টিকা নিশ্চিত করা না যায় তাহলে উপত্যকাটি পোলিও ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জুলিয়েট তোমা।

তবে এই মুহূর্তে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে গাজায় এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এখনও উপত্যকাটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলের হামলায় হতাহত হচ্ছেন বেসামরিক লোকজন। অন্যদিকে রাফা শহরের একটি সুড়ঙ্গে ইসরাইলি ছয় জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধারের দাবি করেছে ইসরাইল। এমন সময় তারা জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানালো যখন গাজায় যুদ্ধ বন্ধ রাখা অপরিহার্য। তবে অনেকের ধারণা এই মৃতদেহ উদ্ধারের জেরে হামলা আরও জোরালো করতে পারে তেল আবিব। ফলত এই কর্মসূচি পরিচালনা করা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension