
চীন-ভারতের স্বার্থের দ্বন্দ্বের ভিকটিম রোহিঙ্গা মুলমানদের বাঁচাতে বাংলাদেশকেই সোচ্চার হতে হবে
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই। আর এ সংলাপে ৫৭ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ওআইসি’র মাধ্যমেও ফলপ্রসূ হবে না। এটি করতে হবে বাংলাদেশকে’-এমন মন্তব্য করা হয়েছে নিউইয়র্কে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে দুদিনব্যাপী ‘মিয়ানমারের বর্বরতার জন্যে দায়ীদের চিহ্নিত এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।
এ সম্মেলনের বিস্তারিত তথ্য অবহিত করতে ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় অর্থাৎ সম্মেলন শেষে নিউইয়র্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ‘ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন’। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিলেন ‘ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন’র সমন্বয়কারি এবং আরকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের পরিচালক রাজিয়া সুলতানা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কর্মরত সংগঠনের নেত্রী ইয়াসমীন উল্লাহ, আরকান ইন্সটিটিউট ফর পীচ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক মোং মোং, যুক্তরাজ্যস্থ বার্মিজ কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট টং কিং, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা রোহিঙ্গা মুসলমান মো: নূর প্রমুখ।

সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই সোচ্চার রয়েছেন। অনেকে সাহায্য-সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে। কিন্তু তা সমস্যার সমাধানে যথেষ্ঠ নয়। এজন্যে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে বাংলাদেশকে।’ মো. নূর ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘চীন ও ভারতের স্বার্থের দ্বন্দ্বের ভিকটিম হয়েছি রোহিঙ্গারা। এই দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধানের জন্যে বাংলাদেশকে আরো জোরালো ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার বিকল্প নেই। রাজনৈতিক সংলাপের আয়োজন করতে হবে বাংলাদেশকে।’ ‘জাতিসংঘে দেনদরবার চলছে, ওআইসির ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রই সোচ্চার রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ প্রভাবশালী অনেক রাষ্ট্র মিয়ানমারের বর্বরতার বিপক্ষে। তবুৃও চরম বাস্তবতা হচ্ছে, এখনও রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে। যারা আরকানে জীবন বাজি রেখে এখনও অবস্থান করছেন, তারা মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। ওষুধ ক্রয়ের জন্যে ফার্ম্মেসীতেও যেতে পারেন না, হাসপাতাল তো দূরের কথা। এক গ্রামের রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নিকট প্রতিবেশী গ্রামে যাবার অনুমতি পাচ্ছে না। অর্থাৎ ভয়াবহ একটি ভীতির মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে’-উল্লেখ করেন টং কিং। এই প্রেস ব্রিফিংয়ের সমন্বয় করেন নিউইয়র্কস্থ ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ইউসুফ। এ সময় তার সাথে আরো ছিলেন এই সংস্থার কর্মকর্তা লুৎফর রহমান লাতু, মশিউর রহমান প্রমুখ।

৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি এই সেমিনার হয় নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। এতে ৩ ডজনের মত বক্তা ছিলেন, যারা মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কাজ করছেন। সকলেই একযোগে প্রায় অভিন্নভাবে সুপারিশ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে, অবিলম্বে উদ্ভ’ত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্যে। একইসাথে রোহিঙ্গা মুসলমান নিধনে জড়িত মিয়ানমারের সামরিক জান্তাসহ সিভিল প্রশাসনকেও আন্তর্জাতিক আদালতে সোপর্দ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করা হয়েছে। এই সভ্য সমাজে এমন বর্বরতায় লিপ্তরা রেহাই পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে অন্য দেশেও এমন বর্বরতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে প্যানেলিস্টরা মতামত ব্যক্ত করেছেন।এনআরবি নিউজ



