
জনপ্রিয় পত্রিকা ঠিকানা’র ২৮ বছর পূর্তি
রূপসী বাংলা ডেস্ক:এ উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের পিএস-৬৯-এ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সন্ধ্যায় বসেছিল ‘দেবে আর নেবে’র এক মহামিলন সভা। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফ‚র্ত মানুষের ঢলে উপচে পড়ে স্কুলের অডিটোরিয়াম। এ মহামিলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রবাসী সুধীজন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও যোগ দেন ঠিকানা’র সম্মানিত বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী, অগণিত পাঠক, পৃষ্ঠপোষক ও বিভিন্ন সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। তাদের সরব উপস্থিতি ঠিকানা পরিবারের আয়োজনকে সাফল্যমন্ডিত করে তোলে। ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ওঠে ঠিকানা পরিবার। নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও অতিথিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রাণভরে অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ২৮ বছর আগে, ১৯৯০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নিয়েছিলো, এরই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনেও এগিয়ে যাবে। কোন শক্তিই ঠিকানাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। এ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা।এ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি ছিলো ‘ঠিকানা পুরস্কার-২০১৭’ প্রদান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী প্রবাসী ৭ বিশিষ্টজনকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান।শুরুতেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নজরুল কবীর ও ফাতেমা রুমা আগত অতিথেদের ঠিকানার আনন্দ-উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত ও তরজমা করেন ড. বিন আল রশিদ, পবিত্র বাইবেল পাঠ করেন ডা. টমাস দুলু রায়, পবিত্র গীতা পাঠ করেন সুশীল কুমার সাহা ও ত্রিপিটক পাঠ করেন সুরীত বড়ুয়া।
এরপর ছিলো শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব। এ পর্বে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঠিকানার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঠিকানার প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান। তিনি অনুষ্ঠানে আগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ঠিকানার পথচলা দীর্ঘ ২৮ বছর। এই ২৮ বছরের ইতিাহাস কিছুটা আমার জানা। কিছুটা আপনাদের। তবে যেটা আমরা সবাই জানি, সেটা হচ্ছে একুশের জাতক ঠিকানা সাংবাদিকতার মৌল আদর্শে বিশ্বাসী। সে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। কোন রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না।
তিনি আরো বলেন, এ বিশ্বে মানুষের পায়ে দুটি শৃঙ্খল আছে। একটি দাসত্বের, আর অন্যটি ভালবাসার শৃঙ্খল। ঠিকানার পায়ে রয়েছে কম্যুনিটির মানুষের ভালোবাসার শৃংখল।
ফজলুর রহমান বলেন, সব কিছু উজার করে দিয়ে ঠিকানার জন্ম দিয়েছেন দূরদর্শী এম এম শাহীন। আর একে মেধা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে যৌবনদীপ্ত করে মানুষের নির্ভরতার প্রতীকরূপে গড়ে তুলেছেন তারই অগ্রজ সাঈদ-উর-রব। এখন আমরা সবাই তারই ফল ভোগ করছি। আশা করছি আপনাদের ভালবাসা নিয়ে ঠিকানা ভবিষ্যতেও তার লক্ষ্যে অটল থেকে এগিয়ে যাবে। তিনি গভীর আন্তরিকতায় তার সহকর্মীদের সহযোগিতা কথাও স্মরণ করেন।
এরপর মূল বক্তব্য রাখেন ঠিকানার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন। এম এম শাহীন বলেন, মূলত প্রবাসে বাংলা ভাষাকে এগিয়ে নেয়া এবং কম্যুনিটির মানুষের মধ্যে বাংলাকে টিকিয়ে রাখতেই ঠিকানা পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। প্রবাসের মানুষের সঙ্গে সেতুবন্ধ রচনায় ঠিকানা ভূমিকা রাখবে সেটাও প্রত্যাশা ছিলো। সেই ভূমিকা ঠিকানা সব সময় রেখে এসেছে, এখনো রাখছে।
তিনি অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সম্মানিত বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং পাঠকদের প্রতি সেই সঙ্গে ঠিকানার পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন অংশে ঠিকানার থিম সং বাজানো হয়।
এরপর ঠিকানার ওয়েব সাইট উদ্বোধন করেন ঠিকানার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন।
পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।



