যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পকে ‘বিশ্বভিলেন’ বানিয়ে ইকনমিস্টের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ইতিমধ্যে এই নির্বাচনে ফের লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনও লড়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও নানা নেতিবাচক খবর নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে। তবে সেসব যেন শাপে বর হয়েছে ট্রাম্পের জন্য।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন ট্রাম্প। বেশ কিছু জরিপে দেখা গেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্প বেশ এগিয়ে রয়েছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক জরিপে দেখা দেখা গেছে, অর্থনীতির ক্ষেত্রে ৫৯ শতাংশ ভোটার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করে, এক্ষেত্রে জো বাইডেনকে বিশ্বাস করে ৩৭ শতাংশ। বিভিন্ন মামলার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও শক্তিশালী হয়েছেন। ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটরা কৃষ্ণাঙ্গ ও হিসপানিক ভোটারদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার তাদের বড় একটি সংখ্যা দলটিকে পরিত্যাগ করছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকনমিস্টের প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরো বিশ্বের জন্য ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। নামকরা এই সংবাদমাধ্যটির শিরোনাম, ”ডোনাল্ড ট্রাম পোজেস দ্য বিগেস্ট ডেনজার টু দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০২৪”, যার বাংলা করলে দাঁড়ায়- ২০২৪ সালে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ডোনাল্ড ট্রাম্প!

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ট্রাম্পের মতো মানুষের ফের প্রেসিডেন্ট অফিসে ফেরার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় জয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর চাপ তৈরি করতেই ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। যেটা সত্যিকার অর্থে কাজেও দিয়েছিল। সম্প্রতি দেশের বাইরেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ও তাইওয়ান প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দৌরাত্ম্য। এই দেশ তিনটি সমন্বিতভাবে একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে।

ইকনমিস্টের আশঙ্কা, ট্রাম্প ফের মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলে তার আগের মেয়াদের চেয়েও বেশি ‘ক্ষতিকর’ হবেন। বিশেষ করে চীন দেখবে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র শক্তিহীন, ফলে তারা তাইওয়ানে সুযোগ নিতে চাইবে এবং বিপজ্জনক কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আগ্রাসনে ট্রাম্পের জয় রীতিমতো বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।

এদিকে দ্য ইকনমিস্টের এরকম নেতিবাচক প্রতিবেদন নিয়ে আরেক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস ট্রাম্পের প্রতিনিধির মন্তব্য জানার চেষ্টা করে। তবে এতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension