
ট্রাম্পের উপর হামলায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় এড়ালেন মূল এজেন্ট, তদন্তে প্রকাশ

শাহ্ জে. চৌধুরী
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িত প্রধান এজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি সিক্রেট সার্ভিস — এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের দফতর পরিচালিত তদন্তে বলা হয়েছে, পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের দায়িত্বে গুরুতর গাফিলতি ছিল। মূল এজেন্ট বেশ কিছু মানক প্রোটোকল মানেননি এবং হামলার ঘণ্টা কয়েক আগে সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কেও কোনো ব্যবস্থা নেননি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ওই হামলায় এক দর্শক নিহত ও কয়েকজন আহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পান ট্রাম্প। পরে তিনি এটিকে নিজের জীবনের “সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্ত” বলে আখ্যা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এজেন্টের দায়িত্বহীনতা ও ত্রুটির কারণে হামলাকারী সহজেই নিরাপত্তা বলয় ভেদ করতে পেরেছিলেন। তা সত্ত্বেও সিক্রেট সার্ভিস তাকে কোনো ধরনের শাস্তি দেয়নি, বরং “কিছু নির্ধারিত পরিস্থিতি” দেখিয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছে।
এটি প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে আইনপ্রণেতা, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। সিনেটর মার্শা লি এক শুনানিতে বলেন, “একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রাণনাশের মতো ভয়াবহ ঘটনায় কেউ দায়ী নয় — এ কেমন দায়মুক্তি?”
একজন জ্যেষ্ঠ ডিএইচএস কর্মকর্তা প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, “এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। সিক্রেট সার্ভিসের ভেতরে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”
তবে সিক্রেট সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার পর নিরাপত্তা প্রটোকলগুলো পর্যালোচনা করে হালনাগাদ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দায়বদ্ধতা ছাড়া কোনো সংস্থা বিশ্বাস পুনর্গঠন করতে পারে না। নিহত দর্শকের পরিবারের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যে সিভিল মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার পর এখনো অনেকের মনে একটাই প্রশ্ন — এভাবে দায় এড়িয়ে গেলে এমন বিপর্যয় আবারও ঘটবে না— তার নিশ্চয়তা কে দেবে?



