গল্পসাহিত্য

তুমিই কি সেই…

হারুকি মুরাকামি

লেখক ও অনুবাদক হারুকি মুরাকামির জন্ম ১৯৪৯ সালে জাপানে। তাঁর লেখা উপন্যাস ও প্রবন্ধ সমানভাবে পাঠক-সমালোচক মহলে প্রশংসিত। পোস্ট মডার্ন সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ একজন লেখক। কাফকা অন দ্য শোর গ্রন্থের জন্য ২০০৬ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের ফ্রানজ কাফকা বিজয়ী ৬ষ্ঠ লেখক। শৈশবেই দারুণভাবে অনুরুক্ত হয়ে পড়েন পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতি, বিশেষ করে পশ্চিমা সঙ্গীত ও সাহিত্যে। তাঁর পশ্চিমা সাহিত্যঘেঁষা লেখালেখির কারণে সহজেই তাঁকে জাপানি লেখকদের থেকে পৃথক করা যায়। মুরাকামি পড়াশোনা করেন নাট্যকলার ওপর। ২০০৯ সালে জেরুজালেম পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো কাফকা অন্য দ্য শোর, নরওয়েজিয়ান উড, দি উইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিকল, আফটার ডার্ক প্রভৃতি। বর্তমান গল্পটি হারুকি মুরাকামির  জাপানি ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনূদিত  ‘দ্য এলিফেন্ট ভ্যানিশেস’ গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া । ইংরেজি অনুবাদ করেছেন  আলফ্রেড বার্নবম এবং জে রুবিন। ‘অন সিইং দ্য হান্ড্রেড পারসেন্ট পারফেক্ট গার্ল ওয়ান বিউটিফুল এপ্রিল মর্নিং’ গল্প অবলম্বনে বাংলায় অনুবাদ করেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল। 

 

এপ্রিলের চমৎকার একটা সকাল। টোকিওর সবচেয়ে বড় সুপারমার্কেটের সামনে জনবহুল একটা রাস্তায় তাকে আমি প্রথম দেখি। আমার স্বপ্নের মেয়েটাকে। দুই মিনিট পরে সে আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। আর আমি দেখতে থাকি পুরোপুরি একশো ভাগ মনের মতো, স্বপ্ন থেকে নেমে আসা সেই মেয়েটাকে।

সত্যি বলতে কি, দেখতে যে সে খুব আহামরি কিছু, তা কিন্তু নয়। কোনভাবেই হয়ত তাকে ভীড় থেকে আলাদা করা যায় না। পরনের কাপড় চোপড়েও নেই তেমন বিশেষত্ব। এমনকি চুলটাও ঠিকঠাক মতো আঁচড়ানো নেই। পেছনের বেঁকে থাকা চুলগুলোতে এখনও ঘুম থেকে ওঠার রেশ স্পষ্ট। তাকে যে ষোড়শী বলব, সে উপায়ও নেই। বয়স তিরিশের কাছাকাছি তো হবেই। তারপরেও, পঞ্চাশ গজ দূর থেকেই এই কথা নিশ্চিত করে বলে দিতে পারি যে, সে-ই আমার মনের মতো মেয়ে। একশে’ ভাগ মনের মতো। যে মূহুর্তে তাকে দেখেছি, তখন থেকেই আমার বুকের ভেতর ধড়াস ধড়াস শব্দ হচ্ছে, মুখের ভেতরটা শুকিয়ে মরুভূমি।

সবারই পছন্দের আলাদা ধরন থাকে। কেউ হয়ত বড় বড়, হরিণের মতো চোখের মেয়ে পছন্দ করে, কেউ আবার চাঁপাকলির মতো পেলব আংগুল দেখে প্রেমে পড়ে যায়, আবার কারও মনের ভেতর গেঁথে থাকে শ্যামল-কোমল মায়াভরা কোনও মুখ। কোনও কোনও পছন্দ বুকের ভেতর জায়গা করে নিতে অনেকটাই সময় নেয়। সেরকম আমারও নিজস্ব কিছু পছন্দের ব্যাপার তো আছেই। কখনও কখনও রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে অজান্তেই হয়ত পাশের টেবিলে বসা মেয়েটার দিকে বারবার চোখ চলে যায়, কারণ তার নাকের গঠনটা দারুণ।

মেয়েদের নাক সুন্দর না হলে আমার ভালো লাগে না। কিন্তু কারও মনের মতো মেয়েটার ভেতর যে সেই পছন্দের ব্যাপারটা থাকবেই, এমন কিন্তু নয়। যেমন, আমি ঠিক বলতে পারব না, যে মেয়েটাকে দেখে আমার বুকের ভেতর একশে’ একটা ড্রাম বেজে উঠল, তার নাকটা ঠিক কিরকম, অথবা আদৌ সেটা জায়গা মতো ছিলে কি না। শুধু এতটুকুই মনে করতে পারি, উল্লেখ করার মতো তার আলাদা কোনও সৌন্দর্য নেই। তবু মনকাড়া! অদ্ভুত!

ঘটনাটাই এমন, এক বন্ধুকে না বলে থাকতে পারলাম না।
: গতকাল আমি আমার স্বপ্নের মেয়েটাকে দেখলাম, রাস্তায়।
: সত্যি নাকি! খুব সুন্দর দেখতে?
: ঠিক তা নয়…
: তবে কি সুন্দর ফিগার?
: না, তাও ঠিক না… আসলে ওর ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে কিচ্ছু মনে করতে পারছি না আমি, কেমন চোখ, কেমন দেখতে, চুলের রং, ..
: আজব তো!
: হ্যাঁ, অদ্ভুত…
: তারপর কি করলে তুমি? ওর সাথে কথা বললে? না কি ওর পিছু পিছু ওদের বাড়ি পর্যন্ত গেলে?
: আরে ওসব কিচ্ছু না। ও শুধু আমার পাশ দিয়ে হেঁটে চলে গেল।
: ওও…
বন্ধুর স্বরে এবার নির্লিপ্ততা ফুটলো। এই গল্পে মজা পাবার কিছু নেই। আমিও আর কথা বাড়াই না। গতদিনের রেশ এখনও মনে ছড়িয়ে আছে।

ও যাচ্ছিল পূব থেকে পশ্চিমে। আর আমি পশ্চিম থেকে পূবে। সকালটা সত্যিই চমৎকার ছিলো! ইশ! যদি একটু কথা বলতে পারতাম তার সাথে! বেশি না, আধা ঘন্টা হলেই হতো। তার সম্পর্কে কিছু শোনা, নিজের সম্পর্কে কিছু বলা, ভাগ্য কেমন করে আমাদের দেখা করিয়ে দিল, আর এই দেখা হওয়াটাই কেমন করে ২০১২-র এপ্রিলের সবচেয়ে চমৎকার সকালে পরিণত হল, এইসব কিছু…

এই দুজনের বাইরের আর কেউ টেরই পেল না কি একটা গভীর গোপন সুখ, এই দুজনকে ছুঁয়ে গেল…
কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর হয়ত দুজনে একসাথে কোথাও লাঞ্চ করলাম। হয়ত সে একটা মুভি দেখতেও রাজি হয়ে গেল। মুভি শেষে ফেরার পথে কোনও বারে ঢুকে এক-আধটু ককটেল… ভাগ্য খুব ভালো হলে রাতটা একসাথে কাটানোর সুযোগ…
এইসব সম্ভাবনার কথা ভাবতেই বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম শুরু হয়ে গেল আবার।

আমাদের ভেতরে দূরত্ব এখন পনের গজ। আচ্ছা, কিভাবে কথা শুরু করা যায় তার সাথে?
: সুপ্রভাত, ম্যাম। আপনি কি মনে করেন, এই চমৎকার রোদেলা সকালে আমরা একসাথে আধাঘন্টা সময় কাটাতে পারি?
হাস্যকর! একেবারে ইনশিওরেন্স সেলসম্যানদের মতো শোনাবে।
: মাফ করবেন, এই এলাকায় কারা সবচেয়ে ভালো ড্রাইওয়াশ করে, বলতে পারেন কি?
নাহ। এটাও বোকার মতো শোনাবে। আর তাছাড়া আমি তো আর কাপড় ড্রাইওয়াশ করাতে যাচ্ছি না। কাজেই এটাও বাদ। কে জানে, হয়তো সাদামাটাভাবে বলা সত্যিটাই অনেক বেশি কার্যকর হবে।
: সুপ্রভাত, মিস। আপনাকে জানাতে চাই যে, আপনি একেবারে একশ’ ভাগ আমার মনের মতো।
উঁহু। এটাতে একটু বিপদের সম্ভাবনা থেকে যায়। সে এই কথা বিশ্বাস না-ও করতে পারে। আবার যদি করেও, হয়ত বলবে না কিছুই। আবার যদি বলেও, হয়ত বলবে, ‘স্যরি। আমি আপনার এক্কেবারে মনের মতো হতে পারি, কিন্তু আপনি তো আমার স্বপ্নে দেখা রাজপুত্তুর না।’ এরকম তো হতেই পারে। আর যদি হয়, তাহলে লজ্জায় মারা যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না আমার। এই বত্রিশ বছরের জীবনে এত বড় প্রত্যাখ্যান নিতে পারব না বোধহয়।

আমরা দুজন দুজনকে পাশ কাটালাম একটা ফুলের দোকানের সামনে। ঠিক আমার পাশ দিয়ে চলে গেল যখন, গোলাপের গন্ধ পেলাম। গন্ধটা দোকানের কোনও ফুলের, না কি তার শরীর থেকে আসা, বোঝা গেল না। তার সাথে কথা বলার সাহসটুকুও করে উঠতে পারলাম না। ওর পরনে সাদা একটা সোয়েটার। হাতে নতুন একটা খাম। ওটাতে তখনও স্ট্যাম্প লাগানো হয় নি। হুম, কাউকে তাহলে চিঠি লিখেছে সে। হয়ত সারারাত পার করেছে সে এই চিঠি লিখতে গিয়ে। ওর জেগে থাকা ক্লান্ত চোখ দুটি সেটারই সাক্ষ্য দেয়। হয়ত তার জীবনের সবচেয়ে গোপন কথাগুলো বন্দী এই মূহুর্তে তার হাতে ধরা খামটাতে।

আরও কয়েক পা সামনে এগিয়ে ঘুরলাম আমি। নেই। ভীড়ের মধ্যে হারিয়ে গেছে।

এখন আমি জানি, সাহস করে উঠতে পারলে মেয়েটাকে ঠিক কী বলতাম আমি। যা বলতাম, সেটা গুছিয়ে দেখি অনেক লম্বা। ঠিকঠাক বলতে পারতাম কি না কে জানে। ধুরো! আমার মাথায় কেন জানি প্র্যাকটিক্যাল কোনও আইডিয়াই আসে না!

চলে যাওয়া সময়টা, এখন এটা হতে পারে শুধুই একটা গল্প। যার শুরুটা হবে, ‘অনেক অনেক দিন আগে একটা ছেলে ছিল…’ আর শেষটা হবে, ‘করুণ একটা গল্প, তাই না?’

অনেক অনেক দিন আগে একটা ছেলে ছিল। আর একটা মেয়ে ছিল। ছেলেটার বয়স ছিল আঠারো। মেয়েটার ষোলো। ছেলেটা যে অসম্ভব আকর্ষণীয় ছিল, তা নয়। মেয়েটাও ছিল খুব সাধারণ। খুব সাধারণ একলা একটা মেয়ে। ছেলেটা ছিল খুব সাধারণ একলা একটা ছেলে। ঠিক অন্যদের মতোই আর কি! কিন্তু সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে তারা বিশ্বাস করত যে, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও তাদের জন্য একশ’ ভাগ মনের মতো মানুষ আছেই। তারা অসম্ভবে বিশ্বাস করত। আর অবাক ব্যাপার! এরকম অসম্ভব ব্যাপারটা বাস্তবে একদিন ঘটেও গেল!

একদিন তাদের দেখা হল। ছেলেটার আর মেয়েটার।
: অদ্ভূত তো! আমি সারাটা জীবন ধরে তোমাকে খুঁজেছি। তুমি বিশ্বাস করবে কি না জানি না, কিন্তু তুমি আমার এক্কেবারে একশ’ ভাগ মনের মতো!
বলল ছেলেটা।
আর মেয়েটা বলল,
: তুমিও, জানো? ঠিক যেমনটা আমি স্বপ্নে চেয়েছি, আমার প্রিন্স চার্মিং যেমনটা হবে, তুমিও ঠিকঠিক একশ’ ভাগ তারই মতো।

পার্কের একটা বেঞ্চে বসলো ওরা। হাতের মুঠোয় হাত। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে তারা কথা বলল। জানলো একে অপরের সম্পর্কে। জানলো, তারা আর মোটেও একা নয়। কথা যেন আর ফুরোতেই চায় না। সত্যিই তো! পৃথিবীতে কয়টা মানুষ আছে, যারা তাদের একশ’ ভাগ মনের মতো সঙ্গী খুঁজে পায়? আর আজ কিনা ঠিক সেই অসম্ভব ব্যাপারটাই ঘটে গেল! এটা কি সত্যিই সম্ভব?

হঠাৎ ছোট্ট, বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ উঁকি দিলো ছেলেটার মাথায়। একটা মানুষের স্বপ্ন কি এত সহজে সত্যি হতে পারে? সেটা কি সম্ভব? মেয়েটাকেও বলল সে কথাটা। বলল, ‘চলো, আমরা নাহয় নিজেদেরকে একবার বাজিয়ে দেখি। আমরা যদি সত্যিই একজন আরেকজনের একশ’ ভাগ মনের মতো হয়ে থাকি, তাহলে কখনও না কখনও, কোথাও না কোথাও, আবার আমাদের দেখা হবে। হবেই। তখন আমরা সত্যিই বুঝে নেবো, আমরা একজন আরেকজনের জন্যই। আর দেরি না করে সেই মূহুর্তেই আমরা বিয়ে করে ফেলব। ঠিক আছে?’
মেয়েটাও তার কথায় একমত হলো। বিচ্ছিন্ন হলো তারা। মেয়েটা গেল পূর্ব দিকে। আর ছেলেটা পশ্চিমে।

যে পরীক্ষাটা ওরা নিজেদেরকে নিয়ে করতে চাইল, আদতে সেটার দরকারই ছিল না। দুজন দুজনের শতভাগ মনের মতো, এবং তাদের দেখা হওয়া, পুরো ব্যাপারটাই মিরাকল। আর মিরাকল বারবার ঘটে না। কিন্তু সেটা জানার পক্ষে খুবই অপরিণত তখন এই দুই বালক বালিকা। আর নিয়তিও পেয়ে গেল তাদেরকে নিয়ে নিষ্ঠুর খেলায় মেতে ওঠার সুযোগ।

পরের শীতে মেয়েটা আক্রান্ত হলো ভয়াবহ ইনফ্লুয়েনজায়। এতই ভয়াবহ, যে তার স্মৃতিশক্তি ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হল। হাসপাতাল থেকে সে ছাড়া পেল। কিন্তু অনেক কথাই সে আর মনে করতে পারল না।
আর ছেলেটা, সে হলো সড়ক-দুর্ঘটনার শিকার। মাথায় মারাত্মক চোট পেয়ে সে হারিয়ে ফেললো তার স্মৃতিকোষে জমা থাকা আগের সব স্মৃতি।

কিন্তু ষোলো বা আঠার বছর বয়সে যে বিপর্যয়ই আসুক না কেন, সেটা জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। প্রায় নতুন একটা জীবন শুরু হলো দুজনেরই। এবং কয়েক বছরের মধ্যেই তারা সমাজে অন্য আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই স্বাভাবিকভাবেই গৃহিত হলো। ওদের একজন কাজ পেলো রেলস্টেশনে, সাবওয়ে লাইনগুলো সময়মতো বদলে দেয়া তার কাজ। আর অন্যজন পোস্ট অফিসে, চিঠি ডেলিভারি দিতে হয় তার। সবকিছুই চলল স্বাভাবিকভাবেই। এমনকি তারা প্রেমেও পড়ল। কখনও পঁচাত্তর ভাগ মনের মতো মেয়ের, আর কখনও সত্তর ভাগ মনের মতো ছেলের।

সময় কাটতে থাকল অসম্ভব দ্রুত গতিতে। অচিরেই ছেলেটার বয়স হল বত্রিশ, আর মেয়েটার ত্রিশ।

এপ্রিলের এক ঝকমকে রোদেলা সকাল, ছেলেটা শুরু করতে চাইল চমৎকার ধূমায়িত এক কাপ কফি দিয়ে। তারই খোঁজে রাস্তায় নেমে এল সে। আর মেয়েটার একটা জরুরি চিঠি ডেলিভারি দিতে হবে। কাজেই সেও হাঁটতে শুরু করল একই রাস্তা ধরে, পূব থেকে পশ্চিমে। আর ছেলেটা পশ্চিম থেকে পূবে। শহরের প্রায় কেন্দ্রে ফুলের দোকানটার সামনে তারা একজন আরেকজনকে পাশ কাটালো। হারিয়ে ফেলা স্মৃতি ভেদ করে উঠে আসতে চাইলপুরনো কোনও ঘ্রাণ। দুজনেরই বুকে কিসের যেন আলোড়ন। এবং দুজনেই জানলো,
এই মেয়েটাই আমার একশো পার্সেন্ট মনের মতো মেয়ে।
এই ছেলেটাই আমার একশো পার্সেন্ট মনের মতো ছেলে।

কিন্তু স্মৃতির সেই কাঁপন, আর সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে ফেলা তীব্র আবেগ ছাপিয়ে ওদের মনে উঠে এল দ্বিধা। কোনও কথা না বলেই দুজন দুজনকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। আর শেষে হারিয়ে গেল। চিরদিনের জন্য।

কি করুণ একটা গল্প, তাই না?

* * * * *

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension