
দরিদ্রদের জন্য টিকা নিশ্চিতে ধনীদের কর বাড়ানোর প্রস্তাব
বিশ্বের অতিধনী বা ধনকুবেরদের ওপর এককালীন ৯৯ শতাংশ করারোপ করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দারিদ্র্যবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ একটি বৈশ্বিক তহবিলের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা তৈরির কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মহামারীতে বিশ্বজুড়ে টিকা বৈষম্য নিরসন করতেই এ প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর এপি।
অক্সফাম বলছে, মহামারীকালে এ ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সরকারের দেয়া প্রণোদনার কারণে এর গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে আরো বেশি সমস্যায় পড়েছে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ। কারণ নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার অসম বণ্টন হয়েছে। অক্সফাম এক প্রতিবেদনে বলছে, এসব টিকার বড় অংশই গেছে ধনী দেশগুলোর কাছে। এসব বিষয় নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অনলাইন সভায় আলোচনা করতে চায় সংস্থাটি।
অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যখন মহামারী থেকে উত্তরণে সরকার কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা এবং ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে প্রবেশ করে, তখন পুরো দেশের অর্থনীতিই এর সুফল পায়। কিন্তু এটাও সত্য, এর একটি বড় অংশ ধনকুবেরদের কাছে চলে যায়।
মহামারীকালে টিকার বিকাশকে সবচেয়ে সাফল্য হিসেবে দেখছেন অক্সফামের এ নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, কিন্তু এ টিকার সবচেয়ে বড় অংশটিই ধনী দেশগুলো তাদের সুরক্ষার জন্য মজুদ করে রেখেছে।
২০২০ সালের মার্চে মহামারী শুরুর পর প্রায় প্রতিদিনই যেন নতুন নতুন ধনকুবের তৈরি হচ্ছে। অক্সফাম বলছে, ইলোন মাস্ক, জেফ বেজোস, বিল গেটসসহ বিশ্বের ১০ জন অতিধনী ব্যক্তির সম্পদ এ মহামারীকালে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। তারা বিশ্বের ৩১০ কোটি অতিদরিদ্র মানুষের মোট সম্পদের চেয়ে ছয় গুণ বেশি সম্পদশালী হয়েছেন। অন্যদিকে মহামারীর কারণে বিশ্বের ৬০ কোটিরও বেশি মানুষ দরিদ্রের মধ্যে পড়েছে।
মূলত বিশ্বের উন্নত দেশগুলোই কভিডপ্রতিরোধী টিকা আবিষ্কার ও এর উন্নয়নে কাজ করছে। ফলে এসব টিকার মেধাস্বত্ব তাদের কাছে। অক্সফাম এসব দেশগুলোর প্রতি টিকার মেধাস্বত্ব ছাড় দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। যাতে টিকার উৎপাদন আরো ছড়িয়ে দেয়া যায়।
অক্সফামের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তি মহামারীতে যে আয় করেছেন তার ৯৯ শতাংশ কর দেয়া হলে ৮০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি তহবিল জমা হবে। বিপুল পরিমাণ এ অর্থ বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। অক্সফাম বলছে, এ অর্থ দিয়ে বিশ্বের জন্য কভিডপ্রতিরোধী টিকা তৈরি করা যেতে পারে। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা যেতে পারে। পাশাপাশি এ অর্থ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা দূর করতে কাজ করা যেতে পারে।
সবকিছু এখনো শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে অক্সফাম বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এরই মধ্যে তাদের নীতি ও কৌশলে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। তারা বৈষম্য দূর করতে ধনী ব্যক্তিদের ওপর কর বাড়িয়েছে এবং একচেটিয়া আধিপত্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। অক্সফাম বলছে, এর অর্থ হলো, চরম অসমতা অনিবার্য নয়। এখনো সাম্যবস্থা ফিরে আসার বিষয়ে আশা করা যায়।



