আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর

‘দিস ইজন্ট কনসেন্ট’

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক, আন্তর্জাতিক রিপোর্ট:  হ্যাশট্যাগ দিস ইজন্ট কনসেন্ট, সঙ্গে অন্তর্বাসের ছবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই লেখাই পোস্ট করছেন নারীরা। নারীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদের আন্দোলন। ছোট অন্তর্বাস পরা মানেই শারীরিক মিলনে সম্মতি দেওয়া নয়, এই আন্দোলনের মূল কথা এটিই। প্রথমে আয়ারল্যান্ড, তার পর সেই আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে। নির্যাতিতা নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিকরা। অন্তর্বাস দেখিয়ে পার্লামেন্টে প্রতিবাদ দেখিয়েছেন আইনসভার সদস্য রুথ কপিঙ্গার। তার প্রতিবাদ দেখানোর সময়, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পার্লামেন্টের টিভি ক্যামেরা। এটা জানার পর কপিঙ্গারের মন্তব্য, ‘আদালতে অভিযুক্তরা অন্তর্বাস দেখিয়ে ছাড় পেয়ে যায়, অথচ পার্লামেন্টে তা দেখানো যায় না।’ এই নিয়ে রাস্তায় নেমেও প্রতিবাদ সংগঠিত করছেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার এক সপ্তাহ পর এ নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। বিচার চলাকালে আদালতে অভিযুক্ত পক্ষর আইনজীবী বিচারকদের বলেন, ‘ধর্ষিত কিশোরী নিম্নাঙ্গে নজরকাড়া অন্তর্বাস পরেছিল। এতেই বেশ বোঝা যাচ্ছে মেয়েটির যৌন সম্পর্কে সম্মতি ছিল।’ আপত্তিকর এই মন্তব্য নিয়ে ঝড় উঠেছে আয়ারল্যান্ডে।

সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, গেল ৫ নভেম্বর ধর্ষণে অভিযুক্ত ২৭ বছর বয়সী এক যুবককে নিরপরাধ বলে মুক্তি দিয়েছে আয়ারল্যান্ডের এক আদালত। তার বিরুদ্ধে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে রাস্তায় ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ ছিল। কিন্তু ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুবকটি। শুনানি চলাকালীন অভিযুক্ত যুবকটির যুবকের পক্ষ নিয়ে কোর্টে দাঁড়ানো নারী আইনজীবী এলিজ়াবেথ ও’কনেল বিচারকমণ্ডলীর কাছে বলেছিলেন, ‘অভিযুক্তের প্রতি মেয়েটি আকৃষ্ট হয়েছিল, সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে এই সম্ভাবনা কি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায়? মেয়েটি কী পরেছিল সেটাও দেখতে হবে। নকশা কাটা থং (এক ধরনের অন্তর্বাস) ছিল তার দেহে।’

তিনি কিশোরীর অন্তর্বাস বিচারকদের দেখিয়ে বলেন, ‘এই অন্তর্বাস পরে আমার মক্কেলকে প্রলুব্ধ করেছিলেন ওই নারী। এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, আকৃষ্ট করার যথেষ্ট সম্ভাবনা এই অন্তর্বাসের আছে। এই ধরনের অন্তর্বাস কেউ পরলে বাকিদের কাছে এই বার্তাই পৌঁছায় যে, তার মিলনের ইচ্ছা রয়েছে। আপনারা এটা দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ওই মহিলা এত ছোট অন্তর্বাস কেন পরতেন?’

জুরি বোর্ডের আটজন পুরুষ এবং চারজন নারী ৯০ মিনিটের শুনানি শেষে সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়ে ওই যুবককে মুক্তি দেন। কিন্তু ও’কনেলের মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান নারী অধিকার রক্ষায় যুক্ত কর্মীরা। ধর্ষণের বিচার যেভাবে হচ্ছে, তা পাল্টানোর দাবি ওঠে। গত মঙ্গলবার এই প্রতিবাদ ছুঁয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টকেও।

আদালতে ধর্ষণে অভিযোগে অভিযুক্ত ওই যুবকটি ছাড়া পেয়ে যায়। তাতে আরও খেপে গিয়েছে আয়ারল্যান্ড। হাজার হাজার নারী টুইটারে নিজেদের অন্তর্বাসের ছবি দিয়ে হ্যাশট্যাগে #দিসইসনটকনসেন্ট (এটা সম্মতি নয়) লিখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

পশ্চিম ডাবলিন থেকে নির্বাচিত নিম্ন কক্ষের এমপি রুথ কপিঙ্গার বিতর্কের সময়ে পার্লামেন্টে থং নিয়ে আসেন। রুথ কপিঙ্গার তার বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে এই অন্তর্বাস দেখানো লজ্জাজনক মনে হলেও আমি বলতে চাই, একবার ভেবে দেখুন, কোর্টে সেটা প্রমাণ হিসেবে হাজির করার পরে ধর্ষিতার মনের অবস্থা কী হয়েছিল।’

গেল বুধবার ডাবলিনের পথে নেমে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছেন রুথ। তাদের স্লোগান ছিল, ‘কোর্টে নির্যাতিতাকে দোষারোপ করা বন্ধ হোক।’ কর্ক-এর সেই আদালতের সিঁড়িতে অন্তর্বাস বিছিয়ে সেখানে মিছিল করেন দুশ’ মানুষ।

বিক্ষোভের মুখে আয়ারল্যান্ডের বিচার ও সাম্যের মন্ত্রী চার্লি ফ্ল্যানাগান জানিয়েছেন, যেভাবে ধর্ষণের মামলার বিচার হয়, তা নিয়ে আইন পাল্টাতে তার কোনও আপত্তি নেই। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ‘রিভিউ কমিটি’ গড়ে তার মতামত নিতে হবে।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension