
দেশের রাষ্ট্রপতি পিএম মোদী, বললেন কংগ্রেসের গর্বের উপাধ্যক্ষ প্রার্থী
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: তিনি এমএ পাশ। একটি জুনিয়র কলেজের উপাধক্ষ। তাঁকে প্রার্থী করে গর্বে বুক ভরে উঠেছে কংগ্রেস নেতাদের। সেই তিনিই কিনা ফাটিয়ে দিলেন কংগ্রসের গর্বের বেলুন। সৌজন্যে রাজনীতি এবং প্রশাসন সম্পর্কে তাঁর ‘অগাধ’ সাধারণ জ্ঞান।
যাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে তিনি হলেন ইবলিনা সুলতানা। অসমের ধুবুরি জেলার মানকাচর কেন্দ্রের বিধানসভা কেন্দ্রের ঝগড়ারচর গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থী। এমএ পাশ এবং ডিএস জুনিয়র কলেজের উপাধক্ষ এই ইবলিনাই কংগ্রেসের গর্বের প্রার্থী।

এই সিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রার্থী ইবলিনার গর্ব কিছু কম নেই। সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই তিনি বললেন, “আমি তো এমএ পাশ। কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল। প্রথম বার ভোটে দাঁড়াচ্ছি। আমি আমার গ্রামের মানুষদের সেবা করতে চাই।”
কিন্তু বিপত্তি ঘটল এর পরেই। ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম কী? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেস প্রার্থী ইবলিনা বললেন, “পিএম মোদী।” প্রাথমিক অবস্থায় মনে হয়েছিল ভুল করে ফেলেছেন এমএ পাশ ইবলিমা। ফের করা হল একই প্রশ্ন। উত্তর কিন্তু বদলাল না। বার বার একই প্রশ্ন করা হলে উত্তর সেই একই ছিল।

কিছু ভুল হচ্ছে বুঝতে পেরে মাঝে সোনিয়া গান্ধীর নাম বলার চেষ্টা করেন ইবলিনা সুলতানা। পাশে থাকা কংগ্রেসের মহিলা কর্মীরা কানে কানে সঠিক উত্তর বলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ততক্ষণে যা ছড়াবার ছড়িয়ে ফেলেছেন কংগ্রেসের গর্বের প্রার্থী।
চমক এখানেই শেশ হয়ে যায়নি। এনএ পাশ এবং কলেজের উপাধক্ষ ইবলিনা ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করেছেন বলে দাবি করলেন সাংবাদিক সম্মেলনে। আর সেই কারণেই নাকি তিনি জানেন না রাজ্যপাল কাকে বলে? তাঁর কাজ কী? অসমের জেলার সংখ্যা কত সেটাও তিনি জানেন না।

রাজ্যপাল কী বস্তু বা বিষয় তা বুঝতে পারেননি ইবলিনা। প্রশ্ন শুনেই যেন আকাশ থেকে পড়লেন। সাফাই দিতে বললেন, “আমি আসলে শিলংয়ে ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করেছি। তাই অসমীয়া প্রশ্ন ঠিক বুঝতে পারছি না।”
সাংবাদিকদের এরপরের প্রশ্ন ছিল অসমের জেলার সংখ্যা কত? খুব দৃঢ়তার সঙ্গে ইবলিনা জবাব দেন, “অসমে একটাই জেলা। আর তা হল ধুবুরি।” সাংবাদিকরা একই প্রশ্ন বার বার করতে থাকলে বিরক্ত হয়ে তিনি বলেন, “আরে এতবার বলার কি আছে! অসমে তো জেলা একটাই। ধুবুরি।”

শিক্ষিত প্রার্থী ইবলিনার পাশে দাঁড়িয়েছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। ওই রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া বলেছেন, “পুঁথিগত জ্ঞানই তো সব নয়। তাঁর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে জ্ঞান থাকলেই হবে।” কিন্তু রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল সম্পর্কে জ্ঞান কী রাজনৈতিক নয়? রাজ্যের জেলার সংখ্যা জানাটা জনপ্রতিনিধি দূর, সাধারণ নাগরিক হিসেবে রাখাটা দায়িত্ব নয়? প্রশ্ন উঠছে।



