
নজরদারিতে ইইউ নেতারা সব জানতেন বাইডেন
ইউরোপীয় নেতাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি চালাচ্ছে। সংবাদটি এমন এক সময় প্রকাশ হয়েছে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বলয় থেকে বের হতে চাইছে। ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে কিনা এমন বিতর্ক গত কয়েক মাস ধরেই চলছে।
ফরেন পলিসি থেকে শুরু করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে ইউরোপীয় নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান সংবলিত বক্তব্য দেখা গেছে। তখন থেকেই মূলত আঁচ করা যাচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের স্বাভাবিক সম্পর্কে একটা উত্তেজনা চলছে।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের ওপর নজরদারি করতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের সহায়তা করেছে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা। এ নিয়ে প্রথম সংবাদটি প্রকাশিত হয় ডেনমার্কেরই একটি পত্রিকায়। এরপর ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মিডিয়াও এ নিয়ে প্রতিবেদন করে।
ডেনমার্ক রেডিও বলছে, ইউএস ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) ২০১৩ সালে মেরকেলের ফোনে আড়ি পেতেছিল। এডওয়ার্ড স্লোডেনের তথ্য ফাঁসের কারণে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর আবারও ডেনিশ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এফই) সহায়তায় সুইডেন, নরওয়ে এবং ফ্রান্সের নেতাদের ওপর নজরদারি চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
নয়টি সূত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে ফোনে আড়ি পাতার তথ্য নতুন করে সামনে এনেছে ডেনিস সম্প্রচারমাধ্যম ডেনমার্কস রেডিও। সবগুলো সূত্রই জানিয়েছে, ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা এফইর গোপন তথ্যে তাদের প্রবেশাধিকার ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাঙ্গেলা মেরকেলসহ তৎকালীন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমিয়ার এবং ওই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা পিয়ার স্টেইনব্রাককেও তখন লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।
ওই খবরে বলা হয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর তথ্য আগে থেকেই জানতেন ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রায়ান ব্রামসেন। তবে তিনি ডেনমার্কস রেডিওকে বলেছেন, ‘কাঠামোগতভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের টেলিফোনে আড়ি পাতা গ্রহণযোগ্য নয়।’ এফই কিংবা এনএসএ কোনো সংস্থায় সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করে নি।
গত রবিবার ডেনমার্কস রেডিও খবর প্রকাশের পর হুইসেলব্লোয়ার এডওয়ার্ড স্লোডেন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথম থেকেই এই কেলেংকারির ঘটনা জানতেন। ওই নজরদারি যখন চালানো হয় তখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক কন্ট্রাক্টর এডওয়ার্ড স্লোডেন ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ফোনে আড়ি পাতা ও ইন্টারনেট নজরদারির বিপুল তথ্য ফাঁস করে দেন। তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি চুরির অভিযোগ আনে। পরে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন স্লোডেন।
ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী ক্লেমেন্ত বুনে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটা ভয়াবহ ব্যাপার। ইউরোপে আমাদের অংশীদার ডেনমার্ক আমেরিকান সার্ভিসের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কোনো ভুল করেছে কিনা তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। মিত্রদের মধ্যে অবশ্যই বিশ্বাস ও ন্যূনতম সহযোগিতা থাকতে হবে।’
এদিকে সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হালতভিস্ত ও নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্রাংক বেক জেনসেন অবিলম্বে এই অভিযোগের যাবতীয় তথ্যপ্রাপ্তির দাবি জানান। বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলেও তাদের দাবি। বিষয়টি নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপের শীর্ষ নেতারা মুখ খোলেননি। তবে ক্ষমতা ছাড়ার আগে জার্মান চ্যান্সেলর এই নজরদারি বিষয়টির শেষ দেখে ছাড়বেন বলে তার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।❏



