আন্তর্জাতিক

উহানের ল্যাবে সামরিক গবেষণা!

গত কয়েক দিন ধরেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধান নিয়ে ফের উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার গোয়েন্দা বাহিনীকে করোনার উৎস সন্ধানে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর এমন প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস চীনের কোনো পশু থেকে ছড়িয়েছে নাকি ল্যাবরেটরির দুর্ঘটনা থেকে; তা তদন্ত করে সেই রিপোর্ট তিন মাসের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই অভিযোগের আঙুল চীনের একটি ল্যাবের দিকে। যদিও চীন বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে এবার আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। গত শনিবার তিনি বলেছেন, ‘উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বেসামরিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি চলত সামরিক গবেষণা।’

মাইক পম্পেও বলেন, ‘আমি এটা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, আমরা জানি যে পিপলস লিবারেশন আর্মি সংক্রান্ত গবেষণা চলত উহানের এই ল্যাবে। চীন সেই গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য দিতে অস্বীকার করে। সেখানে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও।’ এদিকে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, উহানের ল্যাবে চীনা বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাস তৈরি করেছেন। পরে এটি তৈরিতে নিজেদের ভূমিকা গোপন রাখতে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ভাইরাসটির আরেকটি সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে, যাতে মনে হয় এটি বাদুড়ের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ব্রিটিশ অধ্যাপক আঙ্গুস ডালগ্লেইশ ও নরওয়ের বিজ্ঞানী বিরজার সোরেনসেন। আঙ্গুস লন্ডনের সেন্ট জর্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজির অধ্যাপক এবং সোরেনসেন ইমিউনর নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।

২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের শহর উহানে কভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। ভাইরাসটির উৎপত্তির জন্য চীনের পশু বিক্রির একটি বাজারের কথা বলা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়েছে। শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন করোনাভাইরাস তৈরির জন্য চীনকে দায়ী করে আসছে। ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছুদিন এই বিতর্ক থেমে গিয়েছিল। কয়েক দিন পর আবারও সেই বিতর্ক উসকে দেন চীনের এক ভাইরোলজিস্ট। ড. লি মেং ইয়ান নামের এই ভাইরোলজিস্ট দাবি করেছেন, তার কাছে প্রমাণ রয়েছে যে করোনাভাইরাস চীনের একটি ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে। গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করছেন ইয়ান। তিনি জানান, এই বিষয়ে মুখ খোলায় তাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।❏

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension