
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে জাতীয় শোক দিবস পালিত
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালন করেছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা ও কনস্যুলেটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি। অর্ধনমিত জাতীয় পতাকার সাথে জাতীয় সংগীত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। জাতির পিতা, তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহিদ সদস্য ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী নেতৃত্বের উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সভায় ১৫ আগস্টের এই দিনটিকে তিনি ইতিহাসের সবচাইতে জঘন্যতম ও কলঙ্কজনক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও তাঁর আদর্শ ও স্বপ্নকে ঘাতকরা কখনই হত্যা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অদম্যগতিতে উন্নয়নের শিখরে আরোহণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মহামারীর মধ্যেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। কনসাল জেনারেল শোককে শক্তিতে পরিণত করে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে উন্নত দেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার আহবান জানান। এছাড়াও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাবৃন্দ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনী, ব্যক্তিত্ব ও আদর্শের উপর আলোকপাত করেন।
ফেইসবুক লাইভে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ অনেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহিদ সদস্য ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
নিউ ইয়র্কে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস এর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, স্বাগতিক দেশের বিধি-বিধান প্রতিপালন করে কনস্যুলেটে এই দিবস উদযাপন করা হয়।



