
পান্নুনকে ঘিরে ভারতের ক্ষোভের নেপথ্যে যা
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিনি খালিস্তানপন্থী শিখ গুরুপাতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যাচেষ্টা ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে। নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে শিখ নেতা পান্নুনকে হত্যাচেষ্টা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারের দাবি, ভারতের বুকে শিখদের জন্য পৃথক খালিস্তান রাষ্ট্র গড়ার আন্দোলনে যুক্ত থাকাই দিল্লির আক্রোশের মুখে পড়েছেন পান্নুন। ২০২০ সালেই পান্নুনকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করে ভারত।
গত মাসে মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্তের বিরুদ্ধে শিখ নেতা পান্নুনকে খুনের জন্য লোক ভাড়া করার অভিযোগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেছেন, নিখিল গুপ্ত ও একজন ভারতীয় সরকারি কর্মচারী (সাংকেতিক নাম সিসি-১) গত মে মাস থেকে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন, যাতে নিখিলকে অন্যজন ওই হত্যার পরিকল্পনা করতে বলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক নিউ ইয়র্কের আইনজীবী পান্নুন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’-এর আইনি উপদেষ্টা ও মুখপাত্র। দিল্লি দাবি করেছে, পান্নুন আইন লঙ্ঘন করতে চান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তাঁকে হত্যা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পান্নুনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১০টির বেশি মামলা করেছে ভারত। গত সেপ্টেম্বরে অমৃতসর এবং চণ্ডীগড়ে তাঁর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভারত সরকার।
তবে পান্নুন তাঁর বিরুদ্ধে ভারতের তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পান্নুন দাবি করেছেন, তিনি শুধু খালিস্তানে বিশ্বাসী একজন অধিকারকর্মী। পান্নুনের প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে খালিস্তান রাষ্ট্রের জন্য প্রতীকী গণভোটের আয়োজন করেছে।
সূত্র : বিবিসি



