
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় সহায়তা পাঠাতে প্রস্তাব পাস
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) গাজা উপত্যকার জন্য আরো সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। তবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১৫ দেশের মধ্যে ১৩টি প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। ফলে প্রস্তাবটি ১৩-০ ভোটে পাস হয়েছে।
গত শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। ইউএনএসসির স্থায়ী সদস্য এবং ইসরায়েলের প্রধান মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো এড়াতে কয়েকদিনের আলোচনার পর ভোটটি হয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ইসরায়েলের চলমান আক্রমণ ছিল ত্রাণ বিতরণে আসল সমস্যা। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে গাজা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করে জাতিসংঘ।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গাজা উপত্যকায় অন্তত ২০ হাজহার মানুষ নিহত হয়েছে। প্রস্তাবটি এক সপ্তাহ ধরে ঝুলে থাকার পর পাস হলেও এতে যুদ্ধ থামানোর কোনো কথা না বলায়, এর মাধ্যমে গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। খসড়ায় গাজায় অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব রাখা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে যুদ্ধবিরতি কথাটি সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর পরিবর্তে শুধু মানবিক সহায়তার কথা বলা হয়।
প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, সাধারণ ফিলিস্তিনিদের কাছে বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির অবস্থা তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ত্রাণ সরবরাহের জন্য যত পথ আছে তার সবগুলো ব্যবহার উপযোগী করে দিতে হবে। জাতিসংঘের প্রধানের প্রতি একজন কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যিনি ত্রাণ বিতরণের বিষয়টি দেখবেন।
এ ছাড়া জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানানো হয় এবং মানবিক সহায়তা পূরণে গাজায় পর্যাপ্ত জ্বালানি প্রবেশ করার দাবি জানানো হয়।
তবে নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য রাশিয়া এই প্রস্তাবকে অক্ষম বলে দাবি করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভাসিলি নিবানজিয়া বলেছেন, এই প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে বলা হয়নি। এর বদলে এটির মাধ্যমে ‘মুক্ত হস্তে’ ইসরাইলকে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। হামাস গাজার মানুষের মানবিক চাহিদা মেটাতে ‘অপ্রতুল পদক্ষেপ’ বলে যা প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে, তার সমালোচনা করেছে। এদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডএম ড্যানিয়েল হাগারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রস্তবটি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সকল জিম্মিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেছেন।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা



