বাংলাদেশ

পুলিশের কারও কারও বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে গোপনে সহযোগিতার তথ্য আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে কঠোর হতে হবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তাঁর পরিণতি ভালো হবে না।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুলিশের কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে বা অন্যভাবে সহযোগিতা করছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা, দায়িত্বে অবহেলা করার ঘটনাও আছে। ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

আজ শনিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের জন্য ৯৮ জনকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়।

জনগণ পুলিশকে রাজাবাদশার মতো দেখতে চায় না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। কোনো জায়গায় গিয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের চোখে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। অধস্তনদেরও এমন আচরণের অনুমতি বা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাপক জনপ্রত্যাশা এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর গঠিত সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। সরকার পুরস্কার ও শাস্তির নীতিতে বিশ্বাস করে। প্রতিনিয়ত সৃষ্টির পালন ও দুষ্টের দমন চলছে। তিনি বলেন, ‘হয়তো শতভাগ ন্যায়বিচার আমরা প্রত্যেকের কাছে পালন করতে পারছি না, বাস্তবায়ন করতে পারছি না। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যায়। মেসেজ একটাই। আশা করি, মেসেজটা পেয়েছেন।’

পুলিশের সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে তাঁর একটাই বার্তা-সমাজের প্রয়োজন, রাষ্ট্রের প্রয়োজন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য পুলিশকে কঠোর হতে হবে। তিনি বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি, তারা অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীকেও অপব্যবহার করেছে, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে, নির্যাতন করেছে, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়েছেন অবৈধ নির্দেশ পালন করতে। কিন্তু আমরা আপনাদের সবাইকে সংশোধনের, আস্থা অর্জনের সুযোগ দিয়েছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার মধ্যে বিষয়গুলো সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে একই সঙ্গে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগীয় কার্যক্রম, শাস্তি, তিরস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension