
প্রথম সাক্ষাতেই রাজ কাপুরকে ঠাটিয়ে চড় কষিয়েছিলেন মান্না
রূপসী বাংলা বিনোদন ডেস্ক: ‘তারপরেই কোথা থেকে আমার গালে এক বিরাশি সিক্কার চড়। ভৌতিক চড়। সেই চড় খেয়ে আমি শুধু সর্ষের ফুলই দেখলুম না। সর্ষে, কলাই, মটর, মুগ, পাট, আম, কাঁঠাল-সব-কিছুর ফুলই এক সঙ্গে দেখতে পেলুম।’ টেনিদা’র চার মূর্তি গল্পের শেষের দিকে ভূতের চড় মারার দৃশ্যটা মনে পড়ে? অনেকটা সেরকমই হয়তো অবস্থা হয়েছিল রাজ কাপুরের। প্রথম দর্শনেই মান্না’র থেকে খেয়েছিলেন ওইরকমই একটা বিরাশি সিক্কার চড়। আর চোখে সর্ষে ফুল দেখাও কোনও অসম্ভব ঘটনা নয়। মুগুর ভাঁজা মান্নার কড়া হাতে ঠাটিয়ে চড় খেলে এমন হতেই পারে।
খেলার মাঠে হরভজন সিংয়ের হাতে চড় খেয়ে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল শ্রীসন্থকে। ‘সিংহম’ সিনেমাতে অজয় দেবগনের সেই লাফিয়ে উঠে ঠাটিয়ে চড়ের দৃশ্য এখনও দর্শকদের চোখে ভাসে। কিন্তু এ ঘটনা কোনও টিভি বা সিনেমা পর্দার নাটুকে চিত্রনাট্য নয়। এই ঘটনা একদম বাস্তব। বাস্তবে মান্না-র হাতে বিরাশি সিক্কার এক চড় খেয়েছিলেন রাজ কাপুর। তাও আবার প্রথম পরিচয়ের পরেই।
সেই সময় মুম্বইতে কাকা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে থাকতেন মানা ওরফে ‘মান্না’। পাশের বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন পৃথ্বীরাজ কপুর। একদিন নিজের হাতে তৈরী ফানুস ওড়ানোর তোড়জোড় করছিলেন তিনি।
সেখানে উপস্থিত হয় কিশোর বয়সের রাজ কাপুর। রাজ ফানুসটির গায়ে হাত দিতে গিয়ে ফানুসটি ফাঁসিয়ে ফেলেন। ব্যাস মান্না গেলেন ক্ষেপে। রেগেমেগে রাজকে দিলেন সপাটে এক চড়। কথায় বলে ‘ফার্স্ট ইম্প্রেসন ইজ লাস্ট ইম্প্রেসন’। প্রথম পরিচয়েই এমন ঘটনার পরেও বিস্ময়কর ঘটনা যে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বেরই ছিল। সেই রাজ কাপুরের লিপেই তিনি প্লে ব্যাক করেছেন শ্রী ৪২০ ছবির কাল জয়ী গান ‘পেয়ার হুয়া একরার হুয়া’-তে। এমন অসংখ্য হিট গান রয়েছে মান্না – রাজ কপুরের জুটিতে।
এবার ঘটনা হল, সংগীতের মতোই মান্নার কুস্তি, বক্সিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। তিনি নিয়মিত বক্সিং চর্চা করতেন এবং যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন কুস্তির প্যাঁচে। কৈশোরে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে সারা বাংলা কুস্তি প্রতিযোগিতা দেখতে যেতেন মান্না দে। নিজেও কুস্তিগীর গোবর গোহর আখড়ায় কুস্তি প্র্যাকটিস করতেন। নামও দিতেন এ্যামেচার কুস্তি প্রতিযোগিতায়। শেষ বয়সের এক ইন্টারভিউতে মান্না তাঁর নতুন অ্যালবাম করার পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিলেন , তিনি করতে পারবেন না এই বিষয়টা তাঁকে না বলাই ভালো, কারণ গোবর গোহর আখড়ায় কুস্তি শিখেছেন। বলেছিলেন “প্রবল শরীর চর্চা করেছি।” এমন মানুষের তাজা হাতে একখানা সপাটে চড় খেলে মাথা ভন ভন করা খুব অস্বাভাবিক নয়।
মান্না দে ১৯৪২ সালে কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র সাথে তৎকালীন বোম্বে (বর্তমান মুম্বই) আসেন। সেখানে শুরুতে তিনি কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র অধীনে সহকারী হিসেবে এবং তারপর শচীন দেব বর্মণ (এস.ডি. বর্মণ) এর অধীনে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য স্বনামধন্য গীতিকারের সান্নিধ্যে আসেন এবং তারপর স্বাধীনভাবে নিজেই কাজ করতে শুরু করেন। ‘তামান্না’ (১৯৪৩) চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে মান্না দে‘র অভিষেক ঘটে। সুরাইয়া’র সাথে দ্বৈত সঙ্গীতে গান এবং সুরকার ছিলেন কৃষ্ণ চন্দ্র দে। ঐ সময়ে গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তারপর থেকে আর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয়নি।



