
প্রবল চাপে শাসকদল, বিজেপিতে যোগ দিলেন অনুব্রতের ভাই
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বাংলায় গেরুয়া ঝড়। এক ধাক্কায় বাংলায় বিজেপির লোকসভা আসন সংখ্যা ২ থেকে ১৮ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই ফলাফল বাংলার বিজেপি শিবিরে কার্যত পালে হাওয়া দিয়েছে। আর এরপর থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগদানে কার্যত লাইন পড়ে গিয়েছে।
শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে শাসকদল তৃণমূলের বিধায়করা। দলবল নিয়ে দফায় দফায় বিজেপিতে যোগদান করছেন বিধায়করা। যা অবশ্যই শাসকদলের কাছে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলাফলের পর আত্মবিশ্বাসী বিজেপি শাসকদলের বহু ঘাঁটিতে ভাঙন ধরাচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম বীরভূম।
বীরভূম মানেই তৃণমূলের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মন্ডলের নাম উঠে আসে। লোকসভা নির্বাচনে এবার তাঁর খাস তালুকে ভালো ফল করেছে বিজেপি। জিতলেও বিজেপি প্রার্থীর কাছে রীতিমত বেগ পেতে হয়েছিল শতাব্দী রায়কে। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ কেষ্টার নিজের ওয়ার্ডে পিছিয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জয়জয়কার বিজেপির। এই অবস্থায় গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার অনুব্রত মন্ডলের খাস তালুকে ভাঙন ধরিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। এবার খোদ অনুব্রতের ঘরে ভাঙন ধরাল বিজেপি।
বিজেপিতে যোগ দিলেন অনুব্রতর তুতো ভাই সুমিত মণ্ডল। বীরভূম জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের হাত থেকে বিজেপির দলীয় পতাকা নেন সুমিত। এভাবে খোদ অনুব্রতের ঘরে বিজেপি যেভাবে ঢুকে পড়ল তাতে শাসকদলের চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে অতটা ভাবতে নারাজ কেষ্ট মন্ডল। তবে সুমিত মন্ডল জানিয়েছেন, বাংলায় মোদীর হাত শক্ত করতেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন সুমিত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দাদা অনুব্রত একটি দলকে সমর্থন করে, আমি অন্য দলকে। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে পারিবারিক সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই দাবি করেছেন সুমিত মন্ডল। উল্লেখ্য, গত মাসখানেক মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অনুব্রতের আরেক ভাই।
অন্যদিকে, সুমিত ছাড়াও অনুব্রতের গড়ে তৃণমূল ছেড়েছেন বহু নেতাকর্মী। প্রায় ১০০০ জন নেতা-কর্মী তৃণমূল এবং সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, সবে খেলা শুরু হয়েছে। আগামীদিনে শাসকদল ছেড়ে বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দেবে বলে আশা নেতৃত্বের।



