আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিতে লন্ডনে বিক্ষোভ

গাজায় টানা দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে অবিরাম হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। নির্বিচার এই হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে ৬ হাজারেরও বেশি শিশু। গাজার এই সংঘাতে বর্তমানে মানবিক বিরতি চললেও এই বিরতি শেষ হওয়ার পরপরই ফের হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব। এই পরিস্থিতিতে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিতে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এদিন বিক্ষোভ হয় গ্লাসগো এবং কার্ডিফেও। খবর বিবিসি ও এএফপির।

শনিবারের এই বিক্ষোভে ৩ লাখ মানুষ অংশ নেন। গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে মিছিল করেছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থি। গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর লন্ডনে এটিই প্রথম বিক্ষোভ মিছিল। পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বিক্ষোভকারীই আইনসম্মতভাবেই প্রতিবাদ করেছেন। লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে এই বিক্ষোভটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে লড়াইয়ে চার দিনের বিরতি চলছে। বিক্ষোভের আয়োজকরা বলছেন, লন্ডনের পার্ক লেন থেকে হোয়াইটহল পর্যন্ত আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় ৩ লাখ লোক অংশ নিয়েছিল। অবশ্য লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিক্ষোভে প্রায় ১৫০০ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয় এবং আইন ভঙ্গ করতে পারে এমন শব্দ বা চিত্র সম্পর্কে সতর্ক করে বিক্ষোভকারীদের লিফলেট দেওয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনি পতাকা বহনকারী বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নিতে দেখা যায়। লন্ডনের মিছিলে অংশ নিয়ে ফিলিস্তিনপন্থি এক প্রতিবাদকারী অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করেন। উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী শন বলেন: ‘আমি জানি না এর (অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি) থেকে কী আসতে চলেছে, আমি জানি না এটি ইতিবাচক কোনো কিছু কি না, তবে আমি পুরোপুরি জানি, একবার এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হয়ে গেলে তারা (ইসরাইল) বোমা হামলা আবারও শুরু করবে এবং আমরা যেখানে ছিলাম ঠিক সেখানেই আবার ফিরে যাব, তাই আমি এটা থেকে কিছুই আশা করছি না। অন্যদিকে লন্ডনের পাশাপাশি গ্লাসগো এবং কার্ডিফেও এদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই বিক্ষোভেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। ইসরাইলি বর্বরতায় এই ছোট্ট ফিলিস্তিনি জনপদ এখন স্রেফ কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ফিরতে শুরু করেছেন গাজাবাসী। কিন্তু তাদের কাছে সবকিছুই এখন অচেনা। প্রিয় আবাসস্থল ও রাস্তার চিহ্ন মাত্র নেই। চারদিকে শুধু ধ্বংস আর ধ্বংস। তারপরও বহু ফিলিস্তিনি খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। তারা এখন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চান। ইসরাইলি হামলা থেকে বাদ যায়নি গাজার স্কুল, মসজিদ, গির্জা ও হাসপাতাল। এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির অন্যদের ফের যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে শনিবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension