
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যৌথ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা ৮ ডিসেম্বর
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের কাছে আগামী ৮ ডিসেম্বর বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যৌথভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে।
- ঐক্যফ্রন্টের ১১ দফা ও খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-এর আলোকেই ইশতেহার
- থাকবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য
- চাকরিতে প্রবেশে বয়সের কোনো বাধা থাকবে না
- ৫শ’ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম কমানো হবে; আজ বুধবার বিকেলে পল্টনে ঐক্যফ্রন্টের নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে এ তথ্য জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
এ সময় নির্বাচনের পক্ষে জনমত তৈরি হয়েছে জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ২০১৪ সালে যেনতেন নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ৫ বছর ক্ষমতা ভোগ করেছে। কথা ছিল মধ্যবর্তী নির্বাচনের। কিন্তু তা তারা দেয় নি।
সরকার আবারও যেনতেন নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে অভিযোগ করে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে একক ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, যৌথভাবে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। ইশতেহারে ঐক্যফ্রন্টের ১১ দফা লক্ষ্য যা তারা সাম্প্রতিক সময়ে জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন তার পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকদলগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবকে গুরুত্ব সহকারে স্থান দেওয়া হচ্ছে। তবে, সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিগত ২০১৬ সালে জাতির সামনে তুলে ধরা ‘ভিশন-২০৩০’কে।
সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান নিরঙ্কুশ ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়টি ইশতেহারে যুক্ত থাকবে। ইশতেহারে থাকবে পর পর দু বার কেউ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দিয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত দেয়ার সুযোগ (ফ্লোর ক্রসিং) থাকবে, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ছাড়া চাকরিতে ঢোকার ক্ষেত্রে বয়সের কোনও সীমা থাকবে না, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া সব উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে তার বিচারের ব্যবস্থা করা হবে, ইউটিলিটি সার্ভিস, যেমন-গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত কমানো হবে এবং এর ওপরে যাদের তাদের বাড়ানো হবে না, সবার জন্য রেশনিং পদ্ধতি চালু, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড হবে না, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালুর কথাও থাকবে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারে। এছাড়া যে কেউ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করতে পারবে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, যৌথ ইশতেহারে বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবিধানিক সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা (যা খালেদা জিয়া তার ভিশন-২০৩০তে নিজেই উল্লেখ করেছেন), বেকারত্ব কমানো, উন্নয়নের সুষম বণ্টন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত, জাতীয় নেতাদের মর্যাদা নিশ্চিত করা, মেগা প্রকল্প সমূহ চলমান রাখা, নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, কোটা সংস্কার, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সরকারি চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রাজনীতিতে অতীতমুখীতা বা প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে নতুন ধারার সৃষ্টি (এসবও খালেদা জিয়ার দেয়া ভিশন-২০৩০‘র অংশ), সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা আনতে আমূল পরিবর্তন, সুশাসন, সুনীতি ও সুসরকারের সমন্বয় ও বৃহত্তর জনগণের সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ গড়া, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দলীয়করণের অবসান ঘটিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার, শিক্ষা ও কৃষিখাতে যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা, বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, খেলায় শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে খেলোয়াড়দের আর্থিক সহযোগিতার বিষয় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি থাকবে।
ইশতেহার গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির যৌথ ইশতেহারে সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগই ২০১৬ সালের ১০ মে রাজধানীর গুলশানের অভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার ‘ভিশন-২০৩০-তে উত্থাপন করেছেন।৩৭টি অনুচ্ছেদে ২৫৬টি ক্রমিক নম্বরে ভাগ করা ৪১ পৃষ্ঠার বিস্তারিত উপস্থাপনার মাধ্যমে খালেদা জিয়া তার ভিশন-২০৩০-এ প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদা করে ব্যাখ্যা করেছেন।এতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন,আগামীতে বিএনপি ও তার শরিকরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এ ভিশন-২০৩০-এর আলোকে দেশ পরিচালনা করা হবে।



