প্রধান খবরবাংলাদেশ

বিক্ষোভ না অনশন, খেই হারিয়েছেন ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট:  নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহননের ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে আটক শিক্ষিকা হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে চতুর্থ দিনের বিক্ষোভে নিজেদের কর্মসূচি পরিষ্কার করতে পারেননি ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা।

রোববারে সকাল ৭টায় শুরু হওয়া বিক্ষোভে হাসনা হেনার সহকর্মী শিক্ষকদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়া একেক শিক্ষার্থী একেক কথা বলছেন। তাদের অবস্থা অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলার মতো। শিক্ষক মুক্তির আন্দোলন কীভাবে এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করতে পারছেন না এসব শিক্ষার্থী।

শনিবার বিক্ষোভে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেয়া একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহী বলেন, আমরা সকাল থেকে অনশন করতে চেয়েছি। কিন্তু শিক্ষকরা নিষেধ করেছেন। এর ৫ মিনিট না যেতেই কলেজের এক সাবেক ছাত্রী বলেন, আপুরা তোমরা হেনা আপার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত? তখন শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত বলে সমস্বরে চিৎকার করে সায় দেন।

তখন হ্যান্ড মাইকে তিনি বলেন, তবে আমরা আপুর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অনশন করব।

এদিকে বেলা ১২টায় গভর্নিংবডির সদস্য ইউনূস আলী এসে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার কথা বলেন। তখন সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানদের উদ্দেশ্যে বলেন-আমরা অনশনে যাব।

কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতৈক্য প্রসঙ্গে এক আন্দোলনকারী যুগান্তরকে বলেন, এরা বাচ্চা মানুষ, সব কিছু গুছিয়ে বলতে পারে না। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা বলেন, আমরা ভেতর থেকে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। তারা আমাদের অনশন করতে বলেছেন।

তাদের মূল দাবি-আটক শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে মুক্ত করা। কিন্তু আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন, কেউ বলছেন অনশনের কথা। গেল তিনদিন অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সমানে অনশন কর্মসূচি শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখার শিক্ষার্থী তানিয়া জানান, আমরা অরিত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনার বিচার চাই। তবে নির্দোষ কারও শাস্তি হোক সেটা চাই না। আমাদের মায়ের মত হাসনা হেনা ম্যাডামকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তার মুক্তি না হলে আমরা ক্লাশ করব না। ‘ম্যাডামের মুক্তির দাবিতে আজ থেকে আমরা অনশন শুরু করেছি। তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

তবে শিক্ষকের নির্দেশে অনশন চলছে-প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওরা (শিক্ষক) আমাদের বলেছিলেন…। তার কথা শেষ না হতেই শিক্ষার্থী রোজা বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় এখানে সব শ্রেণির শিক্ষার্থী এসেছি, তার পরেই বলেন, আপাতত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখানে আছে।

এ আন্দোলনে কিছু শিক্ষকও যোগ দেন। শিক্ষক সঙ্গীতা ইমাম বলেছিলেন, হাসনা হেনা আপা আমাদের সহকর্মী। সে হিসেবে তার মুক্তির দাবি করছি। তিনি বলেন, আমরা হাসনা হেনা আপার কোনো দোষ দেখছি না। শ্রেণিশিক্ষক হিসেবে তিনি ছাত্রীকে অধ্যক্ষের কাছে নিয়ে গেছেন। এতে তার দোষ কোথায়? ‘আবেগের জায়গা থেকে এখানে দাঁড়িয়েছি, বিচারাধীন কোনো বিষয়ে আমরা কথা বলব না,’ বললেন শিক্ষক সঙ্গীতা।

তবে শনিবারের বিক্ষোভে যেসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ছিলেন, আজ তাদের কাউকেই দেখা যায়নি।

গত ২ ডিসেম্বর রোববার পরিক্ষা চলাকালীন স্মার্টফোনের মাধ্যমে অরিত্রী  নকল করেছেন  বলে অভিযোগ আনে ভিকারুন্নেছা নূন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পরদিন সোমবার তার বাবাকে ডেকে এনে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বাবার অপমান সহ্য করতে না পেরে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। অরিত্রী নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন অরিত্রীর বাবা। মামলায় গ্রেফতার শ্রেণী শিক্ষিকা হাসনা হেনা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension