
মঙ্গোলিয়া সফরে যাচ্ছেন পুতিন গ্রেপ্তারের অনুরোধ ইউক্রেনের
আগামীকাল ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গোলিয়া সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। কারণ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) গত বছর মার্চে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর সময় ইউক্রেনের শত শত শিশুকে জোরপূর্বক রাশিয়ায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি। এর মধ্যদিয়ে যুদ্ধাপরাধ করেছেন। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ক্রেমলিন ভীত নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট। টেলিগ্রামে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেন আশা করে মঙ্গোলিয়া সরকার এ বিষয়ে অবহিত যে, ভ্লাদিমির পুতিন একজন যুদ্ধাপরাধী। তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে চলতে আমরা মঙ্গোলিয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে হেগে অবস্থিত আইসিসিতে হস্তান্তরের অনুরোধ জানাই।
আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, রোম স্ট্যাটুট-এর চ্যাপ্টার-৯ এর অধীনে মঙ্গোলিয়ার কর্মকর্তারা আইসিসির সিদ্ধান্তে সহযোগিতা করতে বাধ্য। তারা পুতিনকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে এটা এমন নয় যে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করতেই হবে। খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গোলিয়া সহ আইসিসির ১২৪টি সদস্য দেশের প্রত্যেকে পুতিনকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য এবং তিনি যদি এসব দেশের কোনোটিতে যান, সেই দেশের কর্তৃপক্ষের তাকে গ্রেপ্তার করে হেগের আদালতে হস্তান্তর করতে বাধ্য। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেছেন, আইসিসি’কে স্বীকার করে না রাশিয়া। তাই তাদের সিদ্ধান্তকে তারা আমলে নেয় না। ইউক্রেনের অনুরোধের জবাবে পেসকভ বলেন, এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। মঙ্গোলিয়া থেকে আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আইসিসি’র প্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পষ্টতই এই সফরের সব বিষয়ে পুরোপুরি আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলোর হিসাবে ইউক্রেন থেকে জোরপূর্বক কমপক্ষে ১৯০০০ শিশুকে মস্কোতে নিয়ে গিয়েছে রাশিয়া। সেখানে রাশিয়ার বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে রাখা হয়েছে ওই শিশুদের। আইসিসির সদস্য দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বছর সেখানে দু’দিনের একটি সম্মেলন হয়। তাতে যোগ দেয়ার কথা ছিল পুতিনের। কিন্তু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে সেই সফর বাতিল করেন পুতিন। ওই সময় কোর্টের ডকুমেন্টে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা আইসিসি’র কাছে অনুরোধ করেছিলেন পুতিনকে গ্রেপ্তার না করতে। যদি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে তা একরকম যুদ্ধ ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।



