প্রধান খবরবাংলাদেশ

মিটফোর্ডে নৃশংসতা: গ্রেপ্তার ৫, মামলা যাচ্ছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) কংক্রিটের ব্লক দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

আজ শনিবার ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে উপদেষ্টা বলেন, ‘মিটফোর্ডের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২-এর ধারা ১০-এর অধীনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।’

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, যা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানেই গত বুধবার (৯ জুলাই) দিনদুপুরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে থেঁতলে মারা হয়। যদিও ভিডিও ভাইরাল হলে দুদিন পর গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। হত্যাকাণ্ডের ধরন ও এর নৃশংসতা স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে।

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এটিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২-এর ধারা ১০-এর অধীনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত ব্যবসায়ী সোহাগের বড় বোন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) এবং তারেক রহমান রবিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। রবিনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১৯ আসামির মধ্যে দুজন বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠন যুবদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই দুই নেতাকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

হত্যাকাণ্ডে নাম আসায় চকবাজার থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব অপু দাসকেও আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension