
মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ইইউ
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাখাইনে জাতিগত নিধনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ব্লকে মিয়ানমারের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা কেড়ে নেওয়া হতে পারে। এতে অন্তর্ভূক্ত হতে পারে দেশটির বস্ত্রশিল্প খাত। এর ফলে বহু লোক কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা আপাতত ইইউ কার্যকর করবে না। শুরুতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সময় বেধে দেয়া হবে। সেই সময়ের মধ্যে আশানুরূপ ফল না পাওয়া গেলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে মিয়ানমারকে ছয় মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হতে পারে, যার মধ্যে তাদেরকে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।
রাখাইনে জাতিগত নিধনের উদ্দেশ্যে গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘ। সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া কয়েকটি দেশ মিয়ানমারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, ‘মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে জনগণের ওপর এর যে প্রভাব পড়বে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসাবে তুলে ধরে প্রকাশিত জাতিসংঘ প্রতিবেদনও আমরা আমলে না নিয়ে পারি না’।
তবে শুরু থেকেই মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেশটির কার্যত সরকার প্রধান অং সাং সুচি বলেছেন, রাখাইনের ঘটনাটি আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেত।
তবে এখন পর্যন্ত রাখাইনের ঘটনার কথা স্বীকার করেনি মিয়ানমার। বীপরিতে তারা রোহিঙ্গা সংকটের কারণ হিসেবে নানা অজুহাতা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।



