
মেয়েদের বঞ্চিত করায় আফগানিস্তানের নারী উন্নয়নকে স্তব্ধ করে: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এক আলোচনায় বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী তালেবানদের আফগান নারী ও মেয়েদের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা থেকে দূরে রাখার নীতির সমালোচনা করেছেন এবং তারা বলেছেন, আফগানিস্তানই একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ।
আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ নভেম্বর এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় উপস্থিতরা বলেন, এই ধরণের নীতি (মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখা) একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে থামিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেছেন, যদি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আশা করে থাকে তবে আফগান সমাজে নারী ও মেয়েদের তাদের জায়গায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।
আফগানিস্তানে তালেবানরা দায়িত্ব নেয়ার পরই মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণীর ওপর পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও তালেবানরা বেশ কয়েকবার দাবি করেছে, তারা নারী শিক্ষার বিরোধী নয়। নারী ও পুরুষের আলাদা ক্লাসরুম নিশ্চিত করতে পারলেই মেয়েদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে।
শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়। নারীদের একা যানবাহনে চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান সরকার। সম্প্রতি পার্কেও নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির পূণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়।
এদিকে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি কাসাবা কোরোসি ইসলামিক আমিরাতকে গুরুতর সন্ত্রাস-বিরোধী আলোচনায় জড়িত হওয়ার এবং দেশে বিদেশে চরমপন্থীদের প্রবাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার আবেদনের অর্ধেক অর্থায়ন করা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদ আফগানিস্তানে ক্রমাগত সহিংসতা, ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতির পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
একই সঙ্গে সাধারণ পরিষদ আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
লাখ লাখ আফগান নাগরিক জরুরি পর্যায়ের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন এমনটা জানিয়ে বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসলামী আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে আফগান স্থায়ী মিশনের চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার্স নাসের আহমাদ ফাইক বলেছেন যে আফগানিস্তানে একটি বৈধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা দেশটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। যার পক্ষে ১১৬টি ভোট পড়েছে এবং বিপক্ষে কোনো দেশ নেই।
বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি এই প্রস্তাবকে ভারসাম্যহীন বলে অভিহিত করেছেন।
ইরানের প্রতিনিধি হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই প্রস্তাব আফগানিস্তানের বিদেশী বাহিনীর দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রত্যাহারের ভূমিকা উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিনিধি বলেছেন, আমাদের পশ্চিমা সহকর্মীরা আফগানিস্তানে পশ্চিমা জোটের সামরিক অপরাধের তদন্তের রেফারেন্স টেক্সট থেকে মুছে ফেলার জন্য ম্যানিপুলেশনে জড়িত।



