
‘মোদীজি রোশনি আপসে আতি হ্যায় …’ প্রধানমন্ত্রীকে বললেন আনন্দ মহিন্দ্রা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ‘‘স্বচ্ছ ভারত অভিযানের চশমাটি গান্ধীজির কিন্তু Vision আপনার৷’’ স্ক্রিনের ওপার থেকে আসা যুবতীর কথাগুলি মন দিয়ে শুনছিলেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী৷ কথা শেষে হেসে বললেন, ‘‘চশমাও গান্ধীজির, Vision-ও গান্ধীজির .. মোদীর কিছুই নয়৷’’

একটু থেমে আবার বললেন, ‘‘আমরা তো শুধু প্রায়শ্চিত্ত করছি৷ চিন্তা করুন, ওই মহাপুরুষ যা ভেবেছিলেন, সেই কাজই আমরা করছি৷ বাপুর নেতৃত্ব দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল, কিন্তু তিনি দেশকে স্বচ্ছ করে যেতে পারেননি৷ আগামী প্রজন্মকে সে দায়িত্ব নিতে হবে৷’’
দেশের প্রায় ৪০ লক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে টিভি বা ভিডিও কনফারেন্সিং বা নামো অ্যাপের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে শুনেছেন৷ তাঁর মূল বক্তব্য, দেশের সোয়াশো কোটি জনতা উন্নতির রাস্তার হাঁটতে চাইলে সারা বিশ্বের কোনও শক্তিই আটকাতে পারবেন না৷
ভারত আগে কেন উন্নতির রাস্তার হাঁটেনি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে৷ কিন্তু ভবিষ্যতে ভারত অধিকতর উন্নতির রাস্তার হাঁটবে, তা নিয়ে কোনও প্রশ্নই নেই৷ তবে তথ্য প্রযুক্তি কর্মীদের সামনে তাঁদের শিল্প কিংবা কর্মজগতের প্রসারের আলোচনা বাদ দিয়ে পুরদস্তুর লোকসভা ভোটের প্রচারই সেরে ফেললেন মোদী৷
শিল্প থেকে কৃষি, কিংবা শিক্ষা থেকে সেচ – প্রতিটি বিষয়েই তথ্যপ্রযুক্তির সফল প্রয়োগে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তরুণ প্রজন্মের মন টেনেছেন মোদী৷ সেই সঙ্গে দিল্লির জহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দেশের সেরা তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সংস্থাগুলির ‘করপোরেট স্যোশাল রেসপনসিবিলিটি’ সম্পর্কে জানেন এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন৷

কলকাতায় একটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানীর প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তরে একসময় মোদী জানান, ‘‘দেশের পূর্বপ্রান্ত থেকেই আইএএস, আইপিএস’দের ছড়াছড়ি৷ কিন্তু পশ্চিমপ্রান্ত অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে৷ কিন্তু সুষম উন্নয়ন না হলে কী করে চলবে৷’’
তার সরকারের বিরুদ্ধে নানা সময়ে সংবাদমাধ্যমকে কিংবা গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হুশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ কিন্তু এদিন লাটা বলেন মোদী৷ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘আমাদের দেশের চারিদিকে নেগিটিভিটি৷ নৈরাশ্ববাদ৷ যুবক-যুবতীরা উৎসাহ পাবেন কী করে৷ চিভিতে দেখুন ২৪ ঘন্টাই নৈরাশ্ববাদের প্রচার হচ্ছে৷ চিভির বাইরেও ভারত আছে তা বুঝতে হবে৷ আমরা যদি সেলফ সাফিসিয়েন্ট নিউজ পোর্টাল করি, সেখানে পজিটিভ বা আশাব্যাঞ্জক খবর পরিবেশন হবে৷ সেখানে চুরির খবর প্রকাশিত হবে না৷ বরং যে অটোওয়ালা টাকা ফেরৎ দিয়েছে তার খবর প্রকাশিত হবে৷’’
প্রায় দেড় ঘন্টাপ অবসরে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের সামনে সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে তার সরকারের প্রচারই সারলেন মোদী৷ শিল্পপতিরাও খুশি৷ আনন্দ মহিন্দ্রাকে মঞ্চ থেকে দেখতে পাচ্ছিলেন না মোদী৷ বললেন, ‘‘আনন্দজির উপরে আলো নেই৷ তাঁকে দেখা যাচ্ছে না৷’’ আনন্দ মহিন্দ্রাকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘মোদীজি রোশনি আপসে আতি হ্যায় …৷’’ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বললেন, ‘‘ধন্যবাদ৷ তবে অনেক সময় নিয়ে ফেলেছি৷ অখন আমাকে খুব তাড়াতাড়ি যেতে হবে৷’’



