
যুবরাজের সঙ্গে কোলাকুলির প্রতিযোগিতায় মোদি-ইমরান
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি যুবরাজকে স্বাগত জানাতে প্রোটোকল ভেঙে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির হন। সেখানে তিনি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।
এর আগে রোববার পাকিস্তান সফরে আসলে বিমানবন্দরে তাকে স্বগত জানিয়েছিলেন স্বয়ং পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তখন যুবরাজ সালমানকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন ইমরান খানও। দুই নেতার ওই কোলাকুলির ছবি গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ঘুরাঘুরি করেছে। এবার এসেছে মোদি আর যুবরাজের কোলাকুলির ছবি।
যদিও প্রোটোকল অনুযায়ী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে কেবল অন্য দেশের সরকার প্রধানকেই স্বাগত জানাতে গিয়ে থাকেন। আর প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী না হয়ে অন্য কোনো বিদেশি অতিথির ক্ষেত্রে তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যান ভারতের সরকারি কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অথবা জুনিয়র মন্ত্রী। কিন্তু সৌদি যুবরাজের ক্ষেত্রে সেই বিধান ভাঙলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবিশ কুমার টুইটারে সৌদি যুবরাজকে বিমানবন্দরে মোদির জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানানোর একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়’। ওই টুইটে মোদির প্রোটোকল ভাঙারও প্রশংসা করেছেন রাবিশ কুমার।
বুধবার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে একটি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর হবে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে যুবরাজ সালমান সোমবার পাকিস্তান সফর করেন। ওই সফরে ইসলামাবাদের সঙ্গে ২ হাজার কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ চুক্তি স্বক্ষির করেছেন। এছাড়া পাকিস্তানকে আরো নানা সুবিধা দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যুবরাজ এমন এক সময়ে এশিয়া সফরে রয়েছেন যখন পুলওয়ামা হামলাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী জইস-ই মোহাম্মদকে দায়ী করেছে নয়াদিল্লি এবং তারা এ হামলার প্রতিশোধ নেয়ারও হুমকি দিয়েছে।
তবে ভারতের সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ এবং ভারত তাদের ওপর হামলা চালাতে পারে বলে জাতিসংঘে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান।
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘ভারত হামলা চালালে তারা বসে থাকবে না এবং তার দেশ এই হামলার চরম জবাব দেবে।’
তবে সম্পর্ক যেমনই থাকুক আর্থিক স্বার্থের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে দুই দেশই যে তৎপর তা স্পষ্ট। আর এর স্পষ্ট উদাহরণ হচ্ছে প্রোটকল ভেঙে দুই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও নরেন্দ্র মোদির বিমানবন্দরে ছুটে যাওয় এবং যুবরাজের সঙ্গে বুকে বুক ঠেকিয়ে কোলাকুলি করা।
সূত্র: রয়টার্স



