
রবার্টের ইডি জেরা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ প্রিয়াঙ্কা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে স্বামী বিরুদ্ধে৷ চলছে ইডি’র জিজ্ঞাসাবাদ৷ এই পরিস্থিতিতেই রাজনীতির জটীল অঙ্কে নাম লিখিয়েছেন তিনি৷ লোকসভায় দলের গুরু দায়িত্ব তাঁর কাঁধে৷ শাসক শিবিরের ধেয়ে আসছে চোখা চোখা বাক্যবাণ৷ তবু অকুতভয় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা৷ কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের ফাঁকেই জানাচ্ছেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদের মত বিষয় চলতেই থাকবে৷ আমি মনোনিবেশ করছি নিজের কাজে৷’’ স্পষ্ট হচ্ছে ইন্দিরা গান্ধীর নাতনির পাখির চোখ ১৯শের ভোটে দিল্লি দখল৷
দাদা রাহুলের হাত ধরে সবে মাত্র সক্রিয় রাজনীতিকে প্রবেশ করেছেন প্রিয়াঙ্কা৷ তাতেই সাড়া ফেলেছেন তিনি৷ প্রথম দিনের রোড শো-তেই কর্মীদের উন্মাদনা তা জানান দিয়েছে৷ বোট যত এগোবে সেই উন্মাদনার পালে আরও হাওয়া লাগবে বলে বিশ্বাসী হাত শিবির৷ উল্টো ছবি দেরুয়া শিবিরে৷ গেরুয়া নেতারা মুখে বলছেন প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে প্রবেশ কোনও ফারক গড়বে না৷ তবে তাঁকে তোপ দাগতেও ছাড়ছেন না৷ তাঁর রূপের লাবণ্য থেকে স্বামী রবার্ট বঢ়রা৷ নানা ইস্যুতে ইতিমধ্যেই বিঁধেছেন তাঁকে৷ যা দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন দেবী দুর্গার হাতে বিনাশের দেওয়াল লিখন পড়তে পাচ্ছেন মোদী-শাহ জুটি৷
তবে এতকিছু নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন সোনিয়া কন্যা৷ আপাতত মন দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মাটিতে দলের সুদিন ফেরানোর লক্ষ্যে৷ একদিকে মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের আস্থা অর্জন, অন্যদিকে বৈঠকের পর বৈঠক করে দলীয় কর্মীদের মনবল চাঙ্গা করা৷ এই দ্বিবিধ কৌশলেই কংগ্রেসের লোকসভা আসন বাড়াতে উদ্যোগী সংগঠনের পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সংম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়রা৷
মঙ্গলবারের মেগা ব়্যালি৷ তারপর বিশ্রাম নয়৷ বরং লক্ষ্যপূরণে মেগা ব়্যালি থেকেই পরিশ্রমের সূত্রপাত৷ মঙ্গলবারও প্রিয়াঘ্তা দিনভর ব্যস্ত থাকলেন দলীয় কাজে৷ দফায় দফায় বৈঠক করলেন পূর্ব উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে৷ খোঁজ খবর নিলেন দলের ব্লক স্তরের সংগঠনের৷ বৈঠক শেষে জানালেন, ‘‘আমি শুধুই শিখছি৷ আমাকে দেখে কর্মীরা উচ্ছ্বসিত৷ আর ওদের উচ্ছ্বাসই আমার কাছে অনুপ্রেরণার৷’’
বিভিন্ন কথার ফাঁকেই উঠে আসে তাঁর স্বামীর প্রসঙ্গ৷ অস্বস্তির লেশ মাত্র নেই৷ অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের মতই মাপা বাক্যে বললেন, ‘‘এগুলো চলবেই৷ কিন্তু আমি মন দিয়েছি আমার রাজনীতির কাজে৷’’ বুঝিয়ে দিলেন স্বামীর পাশে আছেন৷ কিন্তু স্বামী রাবার্টের বিষয় বেশি বলা মানে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া৷ যা তিনি কখনও-ই দিতে চাইবেন না৷
প্রসঙ্গত অর্থ জালিয়াতি মামলায় গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলিয়ে প্রায় ১১ ঘন্টা রবার্ট বঢরাকে জেরা করে ইডি। পরে ফের জেরা হয় দত শনিবার৷ সূত্রের খবর, লন্ডনে তাঁর ১২ মিলিয়ন পাউন্ডের ‘অবৈধ’ সম্পত্তি রয়েছে, এই অভিযোগে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে ইডি-র। রবার্ট বঢরার আত্মীয় এবং অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভান্ডারি ছাড়াও এই মামলায় আরও দু’জন জড়িত আছেন বলে অভিযোগ ইডির। যদিও, রবার্ট বঢরা প্রথম থেকে অভিযোগ করে আসছেন, শুধু রাজনৈতিক ফায়দা নিতে বিজেপি তাঁকে ‘লক্ষ্য’ বানিয়েছে।
আপাতত উত্তরপ্রদেশে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সামনে রেখেই পদ্মফুল উপড়োতে চায় হাত শিবির৷ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দলের নেতা, কর্মীদে সঙ্গে বৈঠক৷ তারপর ফের ২১ তারিখ অব্দি প্রচার অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে প্রদেশ কংগেরেসের৷ ভোট এগিয়ে আসায় এই জেরার ঝাঁঝ আরও বাড়বে মনে করছে বিরোধী শিবির৷ তাই বাড়তি কথা না বলে মোদীকে দিল্লির সরকার থেকে সরাতেই স্বচেষ্ট তারা৷



