
লকডাউনের প্রতিবাদে জিনপিংয়ের পদত্যাগ দাবি
করোনা বিধিনিষেধ কঠোর করার বিরুদ্ধে চীনে চলমান বিক্ষোভ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। চীনের অভ্যন্তরে এ ধরনের ঘটনা বিরল। যেখানে সরকার বা নেতার সমালোচনা করলেই কঠোর শাস্তি পেতে হয়, সেখানে অসীম ক্ষমতার মালিক প্রেসিডেন্টেরই পদত্যাগের দাবি তোলা শুধু দুঃসাহসিকই নয়, প্রাণ সংশয়ের কারণও।
রবিবার (২৭ নভেম্বর) বিবিসি অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীনে হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের কঠোর লকডাউন জারি করেছে।
চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক শহর সাংহাই বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। শহরটিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে এসেছে। পুলিশের গাড়ি ঘিরে তাদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে তারা। কড়া লকডাউনকে তারা বর্বর বলে অভিহিত করেছে।
সাংহাইয়ের পাশাপাশি বেইজিং ও নানজিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করছেন।
চীনের উরুমকিতে আবাসিক ভবনে আগুনে ১০ জন নিহত হয়। বিক্ষোভকারীরা বলছে, কঠোর লকডাউন থাকায় তাদের বাঁচানো যায়নি। ভবনের প্রবেশ-বাহিরের কিছু পথে তালা দেওয়া থাকায় বাসিন্দারা সময়মতো বের হতে পারেনি। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালেও নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে চীন সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে উরুমকি কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার পর এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, কেউ যদি দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে, তাহলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
চীনের মতো দেশ, যেখানে সরকার ও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই কঠোর শাস্তি পেতে হয়, সেখানে এ ধরনের প্রকাশ্য প্রতিবাদ এক বিরল ঘটনা।



