
সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের মন্ত্রী পর্যায়ের ফোরাম প্রতিষ্ঠার আহ্বান
সাউথ সাউথ কো-অপারেশন বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের নতুন ফোরাম প্রতিষ্ঠার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশনকে আরো দৃঢ়তর করার প্রত্যয়ে একটি নতুন মন্ত্রী পর্যায়ের ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব’ বিষয়ে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনায় যোগ দেন তিনি। সেখানেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে আর্জেন্টিনা, চীন, কিউবা, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালাউই, মরক্কো, নেপাল, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, সলোমন দীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এই ফোরাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই মুহূর্তে সাউথ সাউথ কো-অপারেশনে মন্ত্রী পর্যায়ের কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। তাই তিনি ২০১৯ সালের মার্চে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিএপিএ+৪০ সম্মেলনে গ্লোবাল সাউথের পররাষ্ট্র/অর্থ/উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রীদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। ফোরামের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে গ্লোবাল সাউথের সদস্য রাষ্ট্রসগুলো তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করার সুযোগ পাবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং গ্লোবাল সাউথের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এ প্রস্তাবে খুবই আশাব্যঞ্জক সমর্থন পেয়েছি।’ এ ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ত্বরান্তিত করার জন্য এ বছরের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করার সদিচ্ছাও ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সালের অ্যাজেন্ডা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি অর্জনে সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনয়নের জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কিউবা, কেনিয়া, মিসর, রুয়ান্ডা এবং মরক্কোর প্রতিনিধিরা এই ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এ ছাড়াও এ বিষয়ে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেপালের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক বক্তব্য দেন। বক্তারা প্রস্তাবটিকে সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের অব্যবহৃত সুযোগ কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বৈঠকটি পরিচালনা করেন এবং এতে তিনি স্বাগত বক্তব্য দেন। সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের জাতিসংঘ অফিসের একজন প্রতিনিধিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।



