যুক্তরাষ্ট্র

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আশা মার্ক কেলি

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্য অ্যারিজোনায় বাইডেনের দল ডেমোক্রেটিক পার্টি সিনেটে আরেকটি আসন পেয়েছে। সেখানে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক কেলি। ফলে সিনেটে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির প্রত্যকের আসন সমান সমান, ৪৯টি করে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারিজোনায় জেতায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণে আরেক ধাপ এগোল ডেমোক্রেটিক পার্টি। এখন বাকি দুই রাজ্য নেভাদা ও জর্জিয়ায় যেকোনো একটি জয় পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাইডেনের পার্টির হাতে। কারণ দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সিনেটে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের টাই-ব্রেকিং ভোটের ক্ষমতা রয়েছে। এ অবস্থায় কক্ষটিতে উভয় পার্টি ৫০টি করে আসন পেলে, ভাইস প্রেসিডেন্টের ভোট নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে মার্ক কেলি বলেন, ‘প্রচারণার শুরু থেকেই আমরা অ্যারিজোনার সব বাসিন্দার অধিকারের কথা বলেছি। এতে আমরা কে ডেমোক্র্যাট, কে স্বতন্ত্র, কে রিপাবলিক তার তফাত করিনি। অ্যারিজোনার গুরুতর সমস্যা মোকাবিলায় রিপাবলিকদের মধ্যে যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের স্বাগত জানাই। দুই বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই আমি এ ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলছি। আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।’

পেশায় মহাকাশচারী ৫৮ বছর বয়সি মার্ক কেলি ২০২০ সালে এক উপনির্বাচনে অ্যারিজোনা থেকে সিনেটর নির্বাচিত হন। রাজ্যটির তৎকালীন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর জন ম্যাককেইনের মৃত্যু হওয়ায় সেই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুই বছর আগে কেলির জয়ের মধ্য দিয়ে প্রায় ৭০ বছর পর রাজ্যটি থেকে প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর পান।

এবারের নির্বাচনে মার্ক কেলির কাছে হেরেছেন রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রম্প মনোনীত প্রার্থী ব্লেক মাস্টার্স। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে পরিচিত ৩৬ বছর বয়সি মাস্টার্সের রাজনীতিতে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। অন্য ট্রাম্প সমর্থকদের মতো মাস্টার্সও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেন।

ওই ভোটে হেরে ট্রাম্প সমর্থকরা দেশটির কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে ২০২১ সালের ৬ জানুযারি তাণ্ডব চালায়, যা ক্যাপিটল রায়ট নামে পরিচিত। এ দাঙ্গার সঙ্গে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার নানা দিক খতিয়ে দেখছে হাউসের একটি বিশেষ কমিটি।

বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শাসক পার্টির জন্য অনেকটা গণভোটের মতো। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত এ ভোটে প্রেসিডেন্টের কাজ নিয়ে নাগরিকরা কতটা সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট, তার একটা ধারণা পাওয়া যায়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসের সবকটি, তথা ৪৩৫ আসনে ভোট হয়। সিনেটের ১০০টির মধ্যে ভোট হয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে। এবার হয়েছে ৩৫টায়। একই সময়ে দেশটির ৫০টি রাজ্যের ৩৬টাতেও এবার গভর্নর ও নানা ধরনের স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচন হয়েছে।

এদিকে, ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আসতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ জর্জিয়ায় কোনো পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের মতো ভোট না পাওয়ায় সেখানে ডিসেম্বরে আবার ভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা রান-অফ নামে পরিচিত।

অবশ্য জর্জিয়ার নির্বাচনের আগেই হাউস কার নিয়ন্ত্রণে থাকছে, তা স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ ইতোমধ্যে যে ফল এসেছে, তাতে রিপাবলিকরা পেয়েছে ২১১ আসন। ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ১৯৯ আসন। নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকার ২১৮ আসন।

জর্জিয়া ছাড়া পশ্চিম অঞ্চলের রাজ্য নেভাদার ফল এখনও বাকি। তবে তা দু-এক দিনের মধ্যে তা জানা যেতে পারে। রাজ্যটির ফল জানা গেলেই, হাউস কার নিয়ন্ত্রণে থাকছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। হাউস রিপাবলিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা বেশি হলেও, জাদু দেখিয়ে রাজ্যটিতে বিপুল আসনে জিতে নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতেও চলে আসতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension